পলাশ দেখতে নয়, শীতের সময় আসুন
হোলির ঠিক আগে যেন বাঁকুড়া–পুরুলিয়ায় যাওয়ার ধুম লেগে যায়। ট্রেনে টিকিট পাওয়া যায় না। হোটেলে ঘর পাওয়া যায় না। সব নাকি অনেক আগে থেকেই বুকড। সবার ধারণা, এই সময়টায় নাকি বাঁকুড়া বা পুরুলিয়া যাওয়ার আদর্শ সময়। কিন্তু যাঁরা গেছেন, তাঁরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।
আস্ত একটা মুড়ির মেলা বসে নদীর ধারে
হঠাৎ করেই যেন সাবালক হয়ে যেতাম
পুরুলিয়া এক্সপ্রেস মানেই আতঙ্ক
ছৌ মুখোশের চড়িদা গ্রামে একটি দিন
ছৌ নাচের কথা কে না জানেন! কোথায় তৈরি হয় সেই ছৌ–মুখোশ? অযোধ্যার লাগোয়া সেই চড়িদা গ্রাম থেকে ঘুরে এসে লিখলেন সংহিতা বারুই।
মাথার ওপর স্নিগ্ধ আকাশ, পায়ের তলায় তিস্তা
কখনও চিঠি লিখে, কখনও পায়ে হেঁটে গ্রাম ঘুরে, কখনও অলস রোদ গায়ে মেখে তিস্তার দিকে চেয়ে থেকে। এভাবেই দ্বিতীয় দিনটাও সুন্দর কেটে গেল। পরেরদিন ফেরার পালা। ফেরার দিন মানেই মন কেমন। তবে সরাসরি সমতল নয়, আরও একটা দিন, পাহাড়েরই অন্য কোনও ঠিকানায়। মন ফিরে যাচ্ছে সেই শান্ত পাহাড়ে। যেখানে টিভি চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজ নেই। আতঙ্কের সংক্রমণ নেই। যেখানে আপন মনে ময়ূর ডেকে চলেছে। যেখানে পায়ে পায়ে জঙ্গল পেরিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে যাওয়া যায়। যেখানে পায়ের তলা দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা।
চায়ের উপত্যকা পেরিয়ে কমলার বাগানে
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির সরণি বেয়ে ….
জীবনে চলার পথে হারিয়ে যাওয়া কোনও বন্ধুর সেই দুষ্টুমির কথা উঠে আসতেই পারে। কোনও মাস্টারমশাইয়ের ধমক বা স্নেহের শাসন, সরস্বতী পুজো বা দুর্গা পুজোর ছোট ছোট ঘটনা, যেগুলো মাঝে মাঝেই মনে পড়ে যায়। লড়াইয়ের দিনগুলোয় কারা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত? জীবনের এতটা পথ পেরিয়ে আসার পর যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে ইচ্ছে করে, সেই দরজা খোলা থাক।
মেঘের দেশের হাতছানি, নির্জন সেই দাওয়াই পানি
বাড়ির সামনেই একটা বেঞ্চ পাতা। ঘরে ঢোকার আগেই সেদিকে চোখ চলে গেল। সামনে একেবারে খোলা জায়গা। সামনে কোনও বাড়ি নেই। কোনও জনপদ নেই। একেবারে খোলা পাহাড়। দূরে নাম না জানা সব পাহাড়ের সারি। আহা, এই বেঞ্চে বসেই তো অনন্ত সময় কেটে যায়। গেয়ে উঠলাম, ‘আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই। কিচ্ছু করার নেই।’
