প্রয়াত কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে’র কথা উঠলেই সবার মাথায় যে গানের সুর গুনগুন করে ওঠে, সেটি নিঃসন্দেহে ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই।’ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল বন্ধুত্বের চিরন্তন সম্পর্কের এই কালজয়ী গানের গড়ে ওঠার ইতিহাস।
ছোট বেলায় না বুঝেই শোনা। গেয়ে যাওয়া। যখন একটু বড় হওয়া, তখন কথার গভীরে ঢোকা। নিজের অজান্তেই চোখে জল এসে যাওয়া। মান্না দে–র গান সম্পর্কে এমনই স্মৃতিচারণ ‘স্মৃতিটুকু থাক’ বিভাগে।
সে সময় ভিডিও গেমও ছিল না। ফেসবুকও ছিল না। ছেলেবেলার সেরা বিনোদন ছিল ওই সাইকেল। সেই সাইকেলকে ঘিরেই কত অ্যাডভেঞ্চার। কত লুকিয়ে থাকা স্মৃতি। বিশ্ব সাইকেল দিবসে নস্টালজিক লেখা সজল পাত্রর।
লোকে কেন এরকম স্মৃতিচারণ করেন? আসলে, সবাই সেই ইনিংসের সাক্ষী থাকতে চান। অন্তত সাক্ষী ছিলাম, এটা বোঝাতে চান। তার জন্য বেমালুম মিথ্যে বলেন। তিনি হয়ত জানেনও না, সেই ম্যাচ দেখানো হয়নি।
সাতাশির একটার পর একটা ম্যাচ দেখছি। আর টিভিতে তিরাশির ক্লিপিংসও দেখছি। সাতাশি আর তিরাশি যেন মিলেমিশে একাকার। সেই সাতাশিতে এসেই তিরাশির হাতেখড়ি। সাতাশির সেমিফাইনালে আমরা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছিলাম। কিন্তু মনে পড়ে গেল, তিরাশির সেমিফাইনালে কিন্তু আমরা এই ইংল্যান্ডকেই হারিয়েছিলাম। ভারতের একটার পর একটা উইকেট পড়ছে। বারবার মনে হচ্ছিল, জিম্বাবোয়ের সেই ম্যাচের পর কেউ কেন কপিলদেব হয়ে উঠতে পারছেন না!
সে ছিল এক সাদা–কালো টিভির রঙিন এক ভুবন। সবুজ ঘাস, লাল বল— এসবের আলাদা কোনও অস্তিত্ব ছিল না। টিভির পর্দায় নয়, সব রঙ তখন মনের পর্দায়। ভারত নামে একটা দেশ, যারা আগেরবার বিশ্বকাপ জিতেছে। ওদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। তিরাশিতে নিশ্চিত জয়ের মুখ থেকে ফিরে এসে রানার্স হয়েছে। এবার নিশ্চয় বদলা নেবে! কিন্তু সেই লয়েড নেই। হোল্ডিং, গারনার, রবার্টসরা নেই। মার্শালও নাকি চোটের জন্য খেলবেন না। এমনকী গর্ডন গ্রিনিজও নেই। তবু দলটার নাম তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগেরবার হারের যন্ত্রণা। তারা কি এমনি এমনি ছেড়ে দেবে!
আমরা গর্ব করে বলি, আমাদের একটা গাভাসকার ছিল। এই গর্ব আজীবন বয়ে বেড়াতে চাই। আমরা শচীন, কোহলিকে ভালবাসি। তাঁদের জন্যও গর্ব করি। কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের প্রশ্ন এলে চোখ বুজে মনে পড়ে দশ হাজার রানের সেই দৌড়টা। লিখেছেন সবুজ সরকার।
সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার বিশ্বকাপে খেলবে না! এখনও মন থেকে মেনে নিতে পারছি না। গতবারও তাদের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে খেলেই উঠে আসতে হয়েছিল। এমনকী দশ দলের মধ্যে ছিল ন’নম্বরে। তবু তো তারা ছিল। তবু তো মনে হচ্ছিল, লয়েড, রিচার্ডস, লারাদের উত্তরাধিকারীরা আছেন। ক্রিস গেল একটা ছক্কা মারলেই কেমন একটা ভাল লাগা তৈরি হত। কৈশোরের সেই দিনগুলো যেন একটু হলেও উকি দিয়ে যেত। এবার কেমন যেন একটা শূন্যতা নেমে আসবে। এই প্রজন্ম হয়ত বুঝবেও না, ওয়েস্ট ইন্ডিজ মানে আসলে কী। কিন্তু আমার মতো অনেকেই আছেন, যাঁরা একসময় রিচার্ডস–মার্শালদের ভালবেসেছিলেন। তাঁদের কাছে এবারের বিশ্বকাপ যেন অনেকটাই বর্ণহীন।
সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাকি বিশ্বকাপ থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। সুপার সিক্সে এমন জটিল অঙ্ক, তারা আদৌ বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কিনা, তা নিয়েই সংশয়। নিজের প্রিয় দল বিশ্বকাপের আঙিনাতেই থাকবে না! এমন একটা নির্মম বাস্তব কী করে হজম করি!
সেই শৈশব, সেই কৈশোর যেন হারিয়ে গেছে। পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই ইলেভেনের টিউশনি শুরু হয়ে যাচ্ছে। জয়েন্টের কোচিং সেন্টার গুলো তো মাধ্যমিক শুরুর এক বছর আগে থেকেই ভয় দেখাতে শুরু করে, এখনই ভর্তি হয়ে যান, পরে কিন্তু সিট খালি থাকবে না। অভিভাবকরাও সেই ফাঁদে পা দেন। ছেলে টেনে উঠতে না উঠতেই আগাম জয়েন্টের কোচিংয়ে নাম লিখিয়ে দিলেন। ফলে, ওরা ছুটির আনন্দটুকুই পায় না। এবারের সংখ্যার প্রচ্ছদ কাহিনিতে সেইসব দিনকে একটু ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা। সেইসব দস্যি দামাল দিনগুলোয় একটু উঁকি দেওয়ার চেষ্টা।