সৃজন শীল
ইদানীং শমীক ভট্টাচার্য কিছু বললেই নানা রকম মিম শুরু হয়ে যাচ্ছে। বামেরাও কটাক্ষ করছেন। তৃণমূল পন্থীরাও কটাক্ষ করছেন। সম্ভবত বিজেপি পন্থীরাও তাই করছেন।
অথচ, কয়েক মাস আগেও শমীকবাবু কিছু একটা বললে, বেশ শ্রদ্ধার সঙ্গেই সবাই শুনতেন। মনে হত, এই মানুষটার পেটে বিদ্যে আছে। এই মানুষটা শিক্ষত, ভদ্র, মার্জিত। এই মানুষটা কখনও খারাপ কথা বলেন না। মনে হত, রাজনীতিতে এমন মার্জিত রুচির মানুষেরই থাকা উচিত।
কিন্তু মাত্র কয়েক মাসেই ছবিটা এমন বদলে গেল কেন? এখন তিনি কিছু বললে কেউ আর সিরিয়াসলি নিচ্ছে না কেন? তাঁর নির্দেশকে এমন অন্তঃসারশূন্য মনে হচ্ছে কেন? আমাদের প্রত্যাশা কি কোথাও ধাক্কা খেল? নাকি শমীকবাবু নিজেই নিজেকে এমন জায়গায় এনে ফেললেন!
শমীকবাবু জননেতা নন। তিনি নিজে সেটা সবথেকে ভাল জানেন। একদিকে তিনি যেমন দলের অনুগত, অন্যদিকে বিরুদ্ধ মতকে সম্মান জানানোর শিষ্টাচারও আছে পুরোমাত্রায়। এতদিন এই দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলতে সমস্যা হয়নি। এখনও তিনি সৌজন্য ও শিষ্টাচারেই বিশ্বাসী। কিন্তু তিনি বিশ্বাসী হলে কী হবে, উল্টো মতের লোকেরা যে পাল্লায় ভারী। তাঁরা অন্য দল থেকে এসে ভিড় করছেন। বিজেপি নেতাদের থেকেও বেশি করে উগ্র হিন্দুত্বের প্রচার করে চলেছেন। যে যার মতো করে ঘৃণা ছড়িয়ে চলেছেন। তাতে হাততালি পাওয়া যায়, মিডিয়ার শিরোনাম পাওয়া যায়, চর্চায় ভেসে থাকা যায়। সেখানে শমীকবাবুদের কণ্ঠস্বরকে কেমন যেন বেমানান মনে হয়।
আসলে, এই তৎকাল বিজেপিদের অনেককিছু প্রমাণের দায় আছে। তাঁদের প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হচ্ছে, তাঁরা আরও বেশি হিন্দুত্ববাদি। তাঁরা আরও ভাল করে ঘৃণা ছড়াতে পারেন। একা শমীকবাবু আর কত লড়াই করবেন? কত শুদ্ধতার বার্তা দেবেন?
কোথাও কোনও অঘটন ঘটলেই তাঁকে বলতে হচ্ছে, ‘যারা এসব করেছে, তাদের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি এই জাতীয় কাজকে সমর্থন করে না।’ গত ছয় মাসে তিনি এতবার এইসব কথা বলে ফেলেছেন, এখন আর নতুন মনে হয় না। এখন সেই আশ্বাসবাণীটাই একটা রুটিনে বদলে গেছে। সেই আশ্বাসবাণীতে এখন ভরসার উপাদান কম, উপহাসের উপাদান বেশি।
কোনদিন এই বীরপুঙ্গবরা বলে বসবেন, ‘কে শমীক ভট্চাজ! তাঁর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।’ সেই দিন হয়তো খুব দূরে নেই।
