ভাবনাও অন্য কেউ ভেবে দিচ্ছে, আপনার মগজে সত্যিই কারফিউ

সরল বিশ্বাস

একটা সমাজ কোন খাতে বয়ে চলেছে, সেটা বুঝতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখুন। একেকটা পোস্ট আর তার তলায় কমেন্টের নমুনা দেখলেই বোঝা যাবে, কত মানুষের স্রেফ খেয়ে–‌দেয়ে কোনও কাজ নেই। বাম, ডান, রাম সব শিবিরেই অলস মস্তিষ্কের ছড়াছড়ি। সারাদিন তাঁদের যেন একটাই কাজ, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা।

কেউ কেউ অতি সক্রিয়। তাঁরা এটা–‌সেটা লিখেই চলেছেন। জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দিয়েই চলেছেন। কারও দৌড় হয়তো দু লাইন। তিনি সেই দু লাইনেই প্রতিভা উজাড় করে দিচ্ছেন। অর্থাৎ, খিস্তি খেউড় করে চলেছেন। কেউ আবার পোস্ট করতেও চান না, কমেন্ট করতেও চান না। তিনি সাইলেন্ট ওয়াচার। অর্থাৎ, নীরবে দেখে চলেছেন। নিজের যাবতীয় কাজকে মুলতুবি রেখে কে কী লিখল, কে কী কমেন্ট করল, তাতেই নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছেন।

কিন্তু ইদানীং আবার এআই, চ্যাটজিবিটি নামক বস্তু এসে গেছে। ফলে, যিনি লিখতে পারেন না, তিনিও অবলীলায় লেখক হয়ে যাচ্ছেন। দু তিন লাইনে নির্দেশ দিয়ে দিচ্ছেন। অমনি চ্যাটজিপিটি একটি ফরমায়েসি লেখা প্রসব করে দিচ্ছে। জ্বালাময়ী চাইলে জ্বালাময়ী, মধু মেশানো চাইলে মধুমেশানো। ব্যাস, তিনি কন্ট্রোল সি আর কন্ট্রোল ভি মেরে বসে থাকছেন। সারাদিন একটা সেলিব্রিটি স্টেটাসের মধ্যে ভেসে থাকছেন। ফলে, কয়েক মাস আগেও যিনি একটা কমেন্ট দিয়ে নিজেকে কেউকাটা মনে করতেন, তিনি এখন বিশাল গুরুগম্ভীর প্রবন্ধের লেখক।

তাহলে, মোদ্দা কথাটা কী দাঁড়াল?‌ যিনি কমেন্টে সীমাবদ্ধ রাখতেন, এআইয়ের কল্যাণে তিনি বেমালুম লেখক হয়ে গেলেন। যিনি দু লাইন কমেন্ট লিখতে পারতেন না, তিনি এখন এইআই–‌এর সৌজন্যে কমেন্ট লেখক হয়ে গেলেন। শুধু আপনার হয়ে লিখে দিচ্ছে, এমন নয়। আপনার হয়ে ভাবার কাজটাও এখন তিনিই করে দিচ্ছেন। আস্তে আস্তে আমরা ভাবতেও কেমন ভুলে যাচ্ছি।

সেই কতকাল আগে ঋত্বিক ঘটক বলে গিয়েছিলেন, ভাবো, ভাবো, ভাবা প্র‌্যাকটিস করো। সত্যিই যদি ‘‌ভাবা প্র‌্যাকটিস’‌ করতাম, তাহলে আমাদের ভাবনা এমন বেদখল হয়ে যেত না। আপনার মগজে এখন সত্যিই কারফিউ।

Previous post ভূত বাংলো যেমন গা ছমছমে, তেমনই রোমাঞ্চকর
Next post কে শমীক ভট্‌চাজ?‌ তাঁর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *