ট্রেনে উঠেই কিছু লোকের প্রথম কাজ হল তারস্বরে ভিডিও চালিয়ে দেওয়া। কী করে পটল চিংড়ি রান্না করবেন, পরের ভিডিওটা এল, পশ্চিমবঙ্গ কি বাংলাদেশ হয়ে যাবে? তারপরই বেজে উঠবে বিকট একটা গান। আরও কত বিচিত্র বিষয়! শালীনতার কারণে না হয় নাইবা লিখলাম। সেইসব জ্ঞানগর্ভ বিষয় তিনি নিজে শুনেই ক্ষান্ত হবেন না, আশপাশের লোককেও শুনিয়েই ছাড়বেন।
ট্রেনে উঠে কে কী করবেন, তার কিছুটা অবশ্যই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু পুরোটা নয়। তারস্বরে রিলস দেখা বা গান শোনা কখনই ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে না। কারণ, সেটা পাশের সহযাত্রীদের যথেষ্টই বিরক্ত করে। এমনকী বন্দেভারত, রাজধানী বা দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনেও এই রিলসের অত্যাচার থেকে বিরাম নেই। সাউন্ড একটু কমাতে বললে তাঁরা যেন রে রে করে তেড়ে আসেন। মাঝে মাঝে তাঁরা বলে বসেন, আপনার সমস্যা হলে আপনি নেমে যান। এমন ভাব দেখান যেন, তারস্বরে রিলস বা ভিডিও দেখাটাই তাঁর মৌলিক অধিকার। আপনার যা ইচ্ছে, আপনি শুনুন। কিন্তু কানে হেডফোনটা অন্তত লাগান। এসব পরামর্শ শুনতে তাঁর বয়েই গেছে। উল্টে তিনি ঝগড়া করবেন, আমি শুনব। আপনার না পোষালে আরপনি নেমে যান।
সেইসঙ্গে আরও একটা উটকো উৎপাত আছে। তা হল ভিডিও কল। জোরে চিৎকার করে তিনি ভিডিও কলে কথা বলে যাবেন। আর সহযাত্রীদের সেগুলো বাধ্য হয়ে শুনতে হবে। এ তো অদ্ভুত আবদার। খুব জরুরি ফোন এলে নিশ্চয় ধরবেন। কিন্তু ভিডিও কল করে এত দেখানোর কী আছে?
রেলের দিক থেকে এইসব বিষয় নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন। এভাবে তারস্বরে রিলস চালানো বা ভিডিও কলিংয়ে লাগাম টানা দরকার। এগুলো যে কাঙ্খিত নয়, অন্তত এই মর্মে প্রচার চালানো দরকার। এতরকম আজগুবি ঘোষণা হয়, এই সংক্রান্ত ঘোষণা হয় না কেন? তাতে এইসব দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেরসিক যাত্রীরা কিছুটা হলেও সতর্ক হতে পারেন। অন্তত ট্রেনে এই জাতীয় আচরণ যে কাঙ্খিত নয়, এই বার্তাটুকু অন্তত পৌঁছে দেওয়া হোক।
