সরোজ রায়
মাঝেরহাটের পর ফাঁসিদেওয়া। আবার সেই সেতু ভেঙে পড়া। কিন্তু মন্ত্রীরা কতটা দায়িত্ব জ্ঞানহীন হতে পারেন, তা আবার বোঝা গেল। যেই না ব্রিজ ভেঙে পড়ল, অমনি বাম সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হল।
তিনদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী বললেন, এই সময় রাজনীতি করতে নেই। সবাইকে পাশে থাকতে হয়। কিন্তু দুদিন যেতে না যেতেই তাঁর দলের আসল চেহারাটা বেরিয়ে এল। প্রথমে এলেন মন্ত্রী গৌতম দেব। আসার আগেই চিত্রনাট্য তৈরিই ছিল। এসেই বলে ফেললেন, এটা বাম আমলে তৈরি। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ সংস্কার করেনি।
একটু পরেই এলেন আরেক মন্ত্রী। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনিও বলে ফেললেন, এটা বামেরা ঠিকমতো বানায়নি। তাদের গাফিলতিতেই সেতু ভেঙে পড়ল। হ্যাঁ, এটা ঘটনা, ২০ বছর আগে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এই সেতুটি তৈরি করেছিল। কিন্তু তারপর গত সাত বছরে তো তৃণমূলের সরকার। রক্ষণাবেক্ষণে কি তাদের কোনও দায় ছিল না? শিলিগুড়ি পুরনিগ, এমনকী মহকুমা পরিষদকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চলেছে সরকার। মেয়র, সভাধিপতিদের বাদ দিয়ে বিরোধী কাউন্সিলরদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন নিয়ম করে মন্ত্রীরা হুঙ্কার ঝাড়ছেন কীভাবে পুরসভা দখল হবে। মহকুমা পরিষদকে উপেক্ষা করে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর কাজ করে চলেছে। অথচ, যেই সেতু ভাঙল, অমনি চাপিয়ে দেওয়া হল বাম সরকারের ঘারে। পাড়ার স্থানীয় স্তরের নেতারা এমন অর্বাচীনের প্রলাপ বকতেই পারেন। কিন্তু ক্যাবিনেট মন্ত্রীরাও যখন আবোল তাবোল বকতে শুরু করেন, তখন বোঝা যায়, অনুপ্রেরণা কোথা থেকে আসছে।
