কৌশিক রায়
কথা ছিল মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নেবেন মন্ত্রী ও মেয়র। উত্তরবঙ্গের পরিচিত একটি সংবাদমাধ্যম এমনই অভিনব এক বিতর্কের আয়োজন করেছিল। মন্ত্রী গৌতম দেবের প্রশ্নের উত্তর দেবেন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। আবার মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের উত্তর দেবেন মন্ত্রী গৌতম দেব।
দুজনকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দুজনেই সম্মতিও জানিয়েছিলেন। প্রকাশ্য এই বিতর্ক সভাটি হওয়ার কথা ছিল শিলিগুড়ি দীনবন্ধ মঞ্চে। টিভিতেও সেই বিতর্ক দেখানো হত। কাগজেও ফলাও করে ছাপা হত। অশোক ভট্টাচার্য তৈরিই ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেন গৌতম দেব। অজুহাত দিলেন, গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।
শিলিগুড়ি পুরসভায় বামেরা জয়ী হওয়ার পর থেকেই যেভাবে রাজ্য সরকার অপদস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা কারও কাছেই গোপন নেই। শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক প্রশাসনিক বৈঠক করে গেছেন। সেখানকার মেয়র ও বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। কিন্তু কোনও সভাতেই তাঁকে ডাকার সৌজন্য দেখানো হয়নি। সোমবার থেকে আবার শুরু হচ্ছে পর্যটন উৎসব। জমকালো উদ্বোধন হবে শিলিগুড়িতে। পাহাড় থেকে অনিত থাপা–বিনয় তামাংরা (যাঁরা নির্বাচিত নন, গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী) হাজির থাকছেন। কিন্তু এখানেও আমন্ত্রণ নেই অশোকের। কী ব্যাখ্যা দিতেন গৌতম?

অন্যান্য সব পুরসভা যেসব খাতে বরাদ্দ পাচ্ছে, শিলিগুড়ি পুরসভা তা পাচ্ছে না। বারবার মন্ত্রীদের, এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছেন অশোক। কিন্তু সরকার সামান্যতম সৌজন্যও দেখায়নি। মুখ্যমন্ত্রীকে, বিভিন্ন মন্ত্রীদের একের পর এক চিঠি লিখে গেছেন মেয়র। কিন্তু এক্ষেত্রেও কোনও উত্তর আসেনি। উল্টে শিলিগুড়ি পুরসভাকে ভাঙার মতো একের পর এক উস্কানিমূলক প্ররোচনা এসেছে খোদ মন্ত্রীদের কাছ থেকে। মিডিয়ার সামনে গৌতম দেবরা আবোল তাবোল যুক্তি আউড়ে গেছেন। লাগাতার মিথ্যের বেসাতি করে গেছেন। নানা জায়গায় মেয়রকে হেনস্থার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। এমনকী জেলা প্রশাসনও লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে নির্লজ্জ তাঁবেদারি করে গেছে।
মুখোমুখি যুক্তির আসরে একেবারেই দিশাহীন দেখাত গৌতম দেবকে। নিজেদের আরও বেআব্রু করে তুলতেন। দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছেন, এটাই অনেক। একদিক দিয়ে পালিয়ে গিয়ে ভালই করেছেন। নইলে যুক্তিতে কুপোকাত হয়ে পেটোয়া লোকেদের দিয়ে সভা ভন্ডুল করাতে হত। অন্তত এই লজ্জার হাত থেকে শিলিগুড়ি বেঁচে গেল।
