স্মৃতিটুকু থাক
আমাদের সঙ্গেই কাজ করত সন্দীপন। প্রায় বছর তিনেক একই স্কুলে আমরা ছিলাম। তারপর সে কলেজে চাকরি পেয়ে গেল। চলে গেল অনেক দূরে। তখন চিঠি লেখার দিন চলে গেছে। তবু সে মাঝে মাঝেই চিঠি লিখত। আমি চিঠি লিখব লিখব ভেবেও লেখা হয়নি। মাঝে মাঝে বরং ফোন করতাম। ওর বিয়েতে নেমন্তন্ন করেছিল। যেতে পারিনি। এমনকি ওর মেয়ের অন্নপ্রাশনেও যেতে পারেনি। হয়ত কিছুটা ভুল বুঝেছিল। সেটাই স্বাভাবিক। যোগাযোগ ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে এল। এরপর আমি একটা সমস্যায় পড়লাম। আমার বাবার গুরুতর অসুখ। ভেলোরে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাতে হবে। লোন নিয়ে বাড়ি করেছিলাম। কিছু দেনাও ছিল। তাই আমার তখন হাতখালি। যাদের কাছে চাইছি, অনেকেই এড়িয়ে যাচ্ছে। তখন মনে পড়ল সন্দীপনের কথা। তার দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আর উপায় কী? খুব সঙ্কোচ নিয়েই চাইলাম। সে পরের দিনই আমার অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলে দিল। যা চেয়েছিলাম, তার চেয়ে বেশিই দিল। বাবা অপারেশনের পর এখন সুস্থ। বাড়িতে আসার পর সন্দীপন একবার দেখতেও এসেছিল। বলে গেল, কোনও তাড়া নেই, যখন পারবে, তখন দিও। ওর টাকা নিশ্চয় একদিন শোধ করব। কিন্তু ওর কাছে চিরঋণী হয়ে থেকে গেলাম।
প্রলয় বসাক, বাগনান
(এই বিভাগ কিন্তু একান্তই পাঠকদের জন্য। আপনারাও লিখে পাঠান আপনাদের অনুভূতি। বিশেষ কারও কথা মনে পড়ছে? অতীতের কোনও কাজের জন্য ভুলস্বীকার করতে ইচ্ছে করছে? বলে ফেলুন। দেখুন, অনেক হালকা লাগবে। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: bengaltimes.in@gmail.com)


