মিডিয়া সমাচার
সরল বিশ্বাস
কোনটা লক্ষ্য আর কোনটা উপলক্ষ্য সেটাই মাঝে মাঝে গুলিয়ে যায়। যেমন গুলিয়ে গেল প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মৃত্যুর পর। এই লেখা মূলত মিডিয়া কভারেজ নিয়ে।
প্রায় সব কাগজেই সুব্রত মুখার্জির লেখা। মানছি, কোনওটাই তাঁর লেখা নয়। সবই স্মৃতিচারণ। প্রায় সব জায়গায় একই চর্বিতচর্বন। অবশ্য, প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রিয়–সুব্রত নাম দুটো একসঙ্গেই উচ্চারিত হয়ে আসছে। তাই প্রিয়র বিদায়ে সুব্রতর স্মৃতিচারণ থাকবে, এ আর নতুন কথা কী? তাই বলে সব কাগজে বাইলাইন?

সাংবাদিকদের স্মৃতিচারণটা বড় অদ্ভুত। সন্দেহ নেই, অনেকেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন প্রিয়বাবুকে। সেইসব বৈচিত্র্যের কথা উঠে আসতেই পারত। কিন্তু প্রিয়বাবুকে নিয়ে লিখতে গিয়ে সবাই নিজের কথাই বড্ড বেশি লিখে ফেলেছেন। মোদ্দা কথা, প্রিয়বাবু আমাকে চিনতেন, আমার পরামর্শে কাজ করতেন, আমার মতামতকে বেশ গুরুত্ব দিতেন। এই সুযোগে সবাই একবার করে নিজেদের ঢাক পিটিয়ে নিলেন। প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলা অনেকেই এই সুযোগে নিজেদের আরও একবার প্রাসঙ্গিক করে নিলেন।
অন্তত ছটি বাংলা কাগজ পড়ে পরেই এমনটা লিখছি। কাউকেই তেমন ব্যতিক্রম মনে হয়নি। তাঁর সঙ্গে প্রিয়বাবুর ঘনিষ্ঠতা প্রায় সবাই টেনে এনেছেন। যেন তিনিই আসল, প্রিয়রঞ্জন আসলে পার্শ্বচরিত্র। নিজের জীবনীর একটা খণ্ড যেন সবাই লিখে ফেললেন। স্মৃতিচারণের সবটাই যে সত্যি, এমন নাও হতে পারে। কোথাও কোথাও বিশ্বাসযোগ্যতার বেশ অভাব। কেউ মারা গেলে, এই এক সুবিধে। তাঁর নামে যা খুশি গল্প লিখে দেওয়া যায়। এই তালিকা থেকে স্বয়ং জ্যোতিবাবুও বাদ পড়েননি। এমনিতেই তিনি রাশভারী। সবার সঙ্গে মিশতেন না। একটা দূরত্ব রেখেই মিশতেন। অনেককেই নামে চিনতেন না। সেই জ্যোতিবাবুর মৃত্যুর পরেও ঘনিষ্ঠতা দেখানোর ঢল নেমেছিল। জ্যোতিবাবুকে নিয়ে যদি এই হতে পারে, তাহলে প্রিয়রঞ্জনকে ঘিরে তো হতেই পারে।
মিথ্যে বলার ব্যাপারে প্রিয়রঞ্জনের বিশেষ সুনাম ছিল। তিনি নাকি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলার সাংবাদিককূল বোধ হয় সেই আবহ ফিরিয়ে আনলেন। বিস্তর জল মিশিয়েই শ্রদ্ধা জানালেন। শুধু প্রিয়বাবুই দেখে যেতে পারলেন না!
