মৌতান ঘোষাল
“আমার কাছে পাঁচ-পাঁচটা বিশ্বকাপ আছে, অ্যাসেজ আছে, ডন ব্র্যাডম্যান আছে, তোমার কাছে কী আছে?” ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া’র এমন সংলাপের পর বিসিসিআই’র একটা কথাই যথেষ্ট “ আমার কাছে আইপিএল আছে”।“ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, তোমার বিশ্বজয়ী সৈনদের হাতুড়ি’র ঘায় বদলাচ্ছি এ’হাত থেকে ও’হাতে”। বিশ্ব ক্রিকেটের ছবিটা তো সত্যি এমনই। বিশ্বকাপ জয়ের উৎসব শেষ হওয়ার আগেই ভারতে’র বিমানে চাপতে হয়েছে ক্লার্ক, ম্যাক্সওয়েলদের। বাবা এ হল ‘ইন্ডিয়া কা সবসে বড়া শো’। পুরো ঝিনচ্যাক ব্যাপারস্যাপার। ক্রিকেট, সঙ্গে সিলভার স্ক্রিন আর সিলভার টনিক। এই মহাকুম্ভে স্নান না করে থাকে কার সাধ্য!
দর্শকরাও তৈরি এন্টারটেন্টমেন্টের স্বাদ একেবারে চেটেপুটে নিতে। বিশ্বকাপ না পাওয়ার দুঃখ ঘুচেগেছে এই সপ্তাহ দু-এক সময়ের মধ্যে।আর তাইতো দুদিন আগেও যে অনুস্কা শর্মা’র গ্যালারিতে উপস্থিতিকেই সেমিফাইনাল হারের সবথেকে বড় কারণ ভাবছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তকুল, যার নামে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে যারপর নাই অকথ্য মন্তব্যে ভরিয়ে দিচ্ছিলেন তথাকথিত ক্রিকেট ফ্যানাটিকরা, তাঁরাই সব থেকে বেশি উৎসাহে চোখ রাখলেন টিভি’র পর্দায় আইপিএল’র উদ্বধনি অনুষ্ঠানে অনুস্কা’র পারফরমেন্স দেখার জন্য। আপাতত ‘ডাইনি’ থেকে ‘ডার্লিং’ বিরাট-বান্ধবি। তবে আইপিএল শুরুর আগে ‘পাতি পাবলিকের’ ‘ফালতু’ কথার জবাবে যে ভাবে একসঙ্গে বিমান বন্দরে নামলেন বিরাট-অনুস্কা তা শুধু চিত্রসাংবাদিকদের ক্যামেরার জন্যই নয় গোটা সমাজের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয় অসাধারন একটা ছবি।
আর যুবভারতী? সে তো সে হোপ86 থেকেই সর্বংসহা। আজ হৃতিক রোশনের ‘ধুম মাচানো’য় আর নতুন কী আছে।যুবভারতী’র দুঃখে একমাত্র আকাশই যা একটু কাঁদল।কিন্তু তাতে আর কতটুকু আটকায়! তাই অনূর্ধ-১৭ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ভেন্যুতে আইপিএল’র উদ্বধনী অনুষ্ঠান নিয়ে যত সমালোচনাই হোক, কে কান দেবে সে কোথায়?মাঠের ক্ষতি? ফুটবলের ক্ষতি? ক্রিড়া সংস্কৃতি’র ক্ষতি? সে তো নেহাৎই ইর্ষান্বিতদের প্রলাপ! যেমন ওই এক ক্লাবের কর্মকর্তা বলেন না, “আইপিএল মানে তো সার্কাস” তেমনই। নিন্দুকেরা তো এও বলে কেকেআরের অ্যামিউজমেন্ট ট্যাক্সও নাকি সেই কবে থেকে…… যাক কলকাতার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডারকে নিয়ে এসব অপপ্রচারে কান দেওয়ার দরকার নেই।
বরং আগামী তিন মাস ক্রিকেট মস্তিতে গা’ভাসানো। আরে বাবা ক্রীড়াবিশ্বে এই একটা যায়গাই তো আমরা দাদাগিরি করি নাকি! এবার “এটা ক্রীড়া না অন্য কিছু বলে বেকার বিতর্ক জুড়লে “পাবলিক” কিন্তু খুব ক্ষেপে যাবে!
