বেঙ্গল টাইমস প্রতিবেদনঃ অনেক আক্ষেপ নিয়েই হয়ত গেয়েছিলেন, ‘এত সুর আর এত গান, যগি কোনওদিন থেমে যায়, সেই দিন তুমিও তো ওগো, জানি ভুলে যাবে যে আমায়।’
মঙ্গলবার সেই সুর, সেই গান থেমে গেল। থেমে গেল জীবনের সব স্পন্দন। কিন্তু সুবীর সেনকে এত সহজে বোধ হয় ভোলা যাবে না। থেকে যাবেন স্মৃতিতে, প্রেমে, বিরহে।
গানের দুনিয়ায় এমন একটা সময় তাঁর আবির্ভাব, যখন মধ্যগগনে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্ররা। তার মাঝেও একটা স্বকীয়তা ঝরে পড়ত তাঁর কণ্ঠে। প্রথম রেকর্ড ১৯৫৪ সালে। একপিঠে ওই উজ্জ্বল দিন, ডাকে স্বপ্নরঙিন। অন্যপিঠে স্বর্ণঝরা সূর্যরঙে। দুটিরই সুরকার সুধীন দাশগুপ্ত।

বাংলা পাশাপাশি সফল মুম্বইয়েও। ১৯৫৭ নাগাদ শঙ্কর জয়কিশেনের সুরে সুযোগ পেলেন কাঠপুতলি ছবিতে। তারপর ‘হাম ভি ইনসান হ্যায়’, বয়ফ্রেন্ড, আপনে হুয়ে পরায়ে, যব সে তুমে দেখা, মাসুম – এসব ছবিতেও নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। বেশ কিছু ডুয়েট গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকারের সঙ্গে।
পাশাপাশি বাংলা ছবিতে ও অ্যালবামেও ছিলেন সাবলীল। ‘এত সুর আর এত গান’, অধিকার কে কাকে দেয়, ধরণীর পথে পথে ধুলি হয়ে, সারাদিন তোমায় ভেবে- এসব একের পর এক গান স্মরণীয় হয়ে আছে তাঁর কণ্ঠে।
গানের স্কুল চালাতেন। বয়সের ছাপ পড়েছিল কণ্ঠেও। অনেকদিন ধরেই ভুগছিলেন ক্যান্সারে। সব সুর যেন থেমে গেল। আসলে থেকেও গেল। যাঁরা কদর বোঝন, তাঁদের কাছে থেকে যাবে কালজয়ী সেই গান।
