এই রাজ্যে কংগ্রেসের শক্তি ঠিক কতটুকু? মালদা, মুর্শিদাবাদে নিঃসন্দেহে কংগ্রেসের পায়ের তলায় মাটি আছে। উতৃতর দিনাজপুরের কিছু বিক্ষিপ্ত এলাকাতেও আছে। বড়জোর নেপাল মাহাতোর সৌজন্যে পুরুলিয়ার একটা অংশকেও ধরা যেতে পারে। এর বাইরে? প্রথম ছেড়ে দিন। দ্বিতীয় ছেড়ে দিন। কোথাও তৃতীয় হওয়ার মতো জায়গাতেও কি কংগ্রেস আছে?
কিন্তু তারপরও কংগ্রেস একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেকেই দেখাতে চাইছেন, এটা হয়তো প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সিদ্ধান্ত। শুভঙ্কর নিজেও নিজেকে কেউকেটা বোঝাতে এই সিদ্ধান্তের দায় নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন। কিন্তু সত্যিই কি এটা শুভঙ্কর সরকারের সিদ্ধান্ত? সত্যিই কি তিনি মনে করেন ওই তিন জেলার বাইরে কংগ্রেসের পায়ের তলায় সামান্যতম মাটিও আছে? নিদেনপক্ষে তিন হাজার ভোট পাওয়ার মতো অবস্থায় আছে?
আসল কথা কেরল। পরপর দুবার সেখানে বামেদের সরকার। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার স্বাভাবিক নিয়মেই এবার কংগ্রেসের সামনে একটা সুযোগ আছে। তাছাড়া, কেরলে কোনও দলই বারবার ফিরে আসে না। সেই সুযোগটা কংগ্রেস কেনই বা হাতছাড়া করতে চাইবে? এখানে বামেদের সঙ্গে জোট করলেই বা কী ফল হত? খুব বেশি হলে চার–পাঁচটা আসন আসত। তার তুলনায় কেরলে সরকার গড়াটা নিশ্চয় রাহুল গান্ধীর কাছে অগ্রাধিকার পাবে। এখানে বামেদের সঙ্গে জোট হলে সেখানে বামেদের বিরুদ্ধে লড়াইটা হয়তো কিছুটা কঠিন হয়ে যেত। সহজ কথা, এই রাজ্যে কংগ্রেসের হারানোর তেমন কিছু নেই। তাই জোট হল বা না হল, তাতে বিরাট কিছু যায় আসে না।
আরও একটা কারণ থাকতে পারে। তা হল তৃণমূলকে না চটানো। জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে তৃণমূলের সমর্থন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস একা লড়তে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর তেমন আপত্তি থাকবে না। কিন্তু কংগ্রেস যদি বামেদের সঙ্গে জোট করে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর খুব গোঁসা হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, বাম–কং ভোট যদি সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসায়, তাহলে তৃণমূলেরই ক্ষতি। সেই কারণে তাঁর দিক থেকেও দূত মারফত এমন কোনও বার্তা যেতে পারে, বামেদের সঙ্গে জোট করার দরকার নেই। পরে লোকসভায় দুটো আসন ছাড়তে পারি। রাহুলের কাছে সেটা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব। বাংলায় দুজন বিধায়ক পাওয়ার থেকে লোকসভায় দুজন সাংসদ পাওয়া, সর্বোপরি তৃণমূলের সমর্থন পাওয়া যে অনেক বেশি জরুরি, এটা রাহুল বোঝেন। তাই খামোখা তিনি জোট করতে যাবেনই বা কেন?
