সুমিত চক্রবর্তী
ফেসবুকে হঠাৎ দেখলাম দিব্যা ভারতীর একটা ছবি। কোনও এক ভক্ত পোস্ট করেছেন। জানতে পারলাম, আজ অর্থাৎ ৫ এপ্রিল তাঁর মৃত্যুদিন। দেখতে দেখতে ২৫ বছর পেরিয়ে গেল!

এই প্রজন্ম হয়ত সেভাবে জানবে না, একসময় এই দিব্যা ভারতীকে ঘিরে কী উন্মাদনাই না ছিল। ভালভাবে খতিয়ে দেখতে গেলে, বলিউডে ফিল্ম কেরিয়ার মাত্র এক বছরের। তাতেই এমন আলোড়ন! বলিউডে আর কেউ এভাবে ঝড় তুলেছেন!
শুরুটা তেলেগু ছবি দিয়েই। গোটা পাঁচেক তেলেগু আর একটা তামিল। এই ছিল ঝুলিতে। বলিউডে প্রথম ছবি ১৯৯২ এ। বিশ্বত্মা। উল্টো দিকে সানি দেওল, চাঙ্কি পান্ডে, নাসিরুদ্দিনের মতো অভিনেতা। কিন্তু আবির্ভাবেই সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন দিব্যা। ‘সাত সমুন্দর পার’ গানটা আজও মুখে মুখে ফেরে।
সেই মাসেই মুক্তি পেল দিল কা ক্যা কসুর। সেই গানগুলো তো এখনও সুপার হিট। এফ এম চ্যানেল থেকে বিয়েবাড়ি, নানা জায়গায় এখনও বেজে ওঠে। গোবিন্দার সঙ্গে সোলা আউর শবনম। সবচেয়ে বড় চমক দিওয়ানা। উল্টোদিকে শাহরুখ। সেটাই শাহরুখের প্রথম মুক্তি পাওয়া ছবি। সুপার ডুপার হিট। বলিউড যেন খুঁজে পেল অন্য এক নায়ককে। সেই বছরই শাহরুখের সঙ্গে দিন আসনা হ্যায়।

এভাবেই একের পর এক হিট ছবি। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র এক বছরেই ১৪ খানা হিন্দি ছবি করেছিলেন দিব্যা। ১৯৯৩ এর ৫ এপ্রিল। রাতে হঠাৎ সেই মর্মান্তিক ঘটনা। ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু। আমরা জানতে পেরেছিলাম পরের দিন। কীভাবে মারা গেলেন, আজও রহস্য থেকে গেল। এত বছর পরেও সেই রহস্যের কিনারা হল না।
তখনও কিছু ছবি তৈরি। কিন্তু মুক্তি পায়নি। এক এক করে মুক্তি পেল রঙ, শতরঞ্জ এর মতো ছবি। কত ছবির কাজ সবে শুরু হয়েছিল। কোনওটা বা মাঝপথে। কোনওটার কথা হয়েছিল, কাজ শুরু হয়নি। বলিউডে অনেক নায়িকা এসেছেন। কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যে এভাবে কেউ সাড়া ফেলেছিলেন বলে মনে হয় না। কী নিঃশব্দে তাঁর মৃত্যুর ২৫ বছর পেরিয়ে গেল। অনেকে জানতেও পারলেন না!
