বৃষ্টির ধারা ও জঙ্গলের মাঝে অনন্ত ধারাগিরি
এমন সময় ঝেপে বৃষ্টি নামল। কিন্তু আমরা সেভাবে ভিজলাম না। চারদিকে অসংখ্য ছোট–বড় গাছ। মাথার উপর যেন পাতার একটা ছাউনি তৈরি হয়েছে। তারপর বৃষ্টি কমতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও জঙ্গল থেকে বেরিয়ে চললাম বুরুডি লেকের দিকে।
এমন সময় ঝেপে বৃষ্টি নামল। কিন্তু আমরা সেভাবে ভিজলাম না। চারদিকে অসংখ্য ছোট–বড় গাছ। মাথার উপর যেন পাতার একটা ছাউনি তৈরি হয়েছে। তারপর বৃষ্টি কমতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও জঙ্গল থেকে বেরিয়ে চললাম বুরুডি লেকের দিকে।
বন্ধুদের মন ভরল না পলাশে। আশ্বাস দিয়ে বললাম বাঁকুড়ায় বেশ কিছু ফুটেছে আমি জানি। চল, তোদের দেখিয়ে দেব। হ্যাঁ কথা রাখতে পেরেছিলাম। সকাল দশটায় রওনা হয়ে যখন বাড়ি ফিরছি, বাড়ির সামনের পলাশ গাছ গুলো তখন পলাশ ফুলে রাঙা। যেগুলো বড়ন্তি যাওয়ার সময় ফোটেনি না আমাদের চোখে পড়েনি, সেটা এখনও বিস্ময়!
লকডাউন মানেই কি গৃহবন্দি! মন ছুটে চলে স্মৃতির আলপথ বেয়ে। রাজাভাতখাওয়ার সেই প্রান্তিক স্টেশন, সন্ধে নেমে আসা সেই জঙ্গলঘেরা পথ, আর সকালের নরম রোদে জঙ্গলের গন্ধ নেওয়া। সবমিলিয়ে দারুণ এক অনুভূতি। মেলে ধরলেন হৈমন্তী ঘোষাল।
মদনমোহন মিষ্টির নামটা প্রথম শুনি ২০০৯ সালে, পুরীর সমুদ্রের ধারে, সমুদ্র স্নান সারার ঠিক পর। পাড়ের দিকে চোখ পড়তেই চির পরিচিত দৃশ্য, বাঁক কাঁধে হাঁড়ি হাঁড়ি মিষ্টি নিয়ে মিষ্টিওয়ালার হাঁক। হাঁড়িতে উঁকি মারতেই জীবনে প্রথম দেখা পেলাম মদনমোহনের। নামের তাৎপৰ্য ঠিক জানা নেই। তবে আন্দাজ করছি মিষ্টির আকার অনেকটা শ্রীকৃষ্ণের ছোটোখাটো একটা বাঁশির মতো। আর সেখান থেকেই হয়ত নাম হয়েছে মদনমোহন।
হাতে গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে যেন হারিয়ে যাচ্ছিলাম স্বপ্নের রূপকথার রাজ্যে। সব যেন ঘুমিয়ে আছে রুপোর কাঠির ছোঁয়ায়। যদিও ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমি নেই, তবে শুনলাম ওখানে হিমালয়ের স্যালামান্ডার দেখা যায়। যার আঞ্চলিক নাম গোড়া এবং বেশ কিছু বছর আগে ভাল্লুক দেখা গেলেও এখন আর তেমন বন্যপ্রাণী দেখা যায় না। নিশ্চিন্তে ঘরে ঢুকে পড়লাম।
বিস্ময়ের আরও বাকি ছিল। দুর্গম পথে যে জ্যোতিদার কণ্ঠে বাক্যালঙ্কারের লাইভ কমেন্ট্রি শুনছিলাম, সেই জ্যোতিদার কণ্ঠে মুগ্ধতার কবিতা! লেপচা খা, সত্যিই তোমাকে সেলাম। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় একজন মানুষের এমন রূপান্তর ঘটে যায়!
পুরী বেড়াতে গেলেই বাঙালি পর্যটক উদয়গিরি, খণ্ডগিরি, কোনারক, চন্দ্রভাগা, চিল্কা— এসব জায়গায় চলে যায়। মাঝখান থেকে পুরীটাই দেখা হয় না। অথচ, পুরীর মধ্যেই কত মন কেড়ে নেওয়ার উপাদান রয়েছে। ফরেনার ঘাটের হদিশ দিলেন সুমিত চক্রবর্তী।