জ্যোতিবাবুর দলের লোকেরা যদি তাঁর মতো একটু সহজ ভাষায় বলতে পারতেন!‌

হ্যাঁ, এই ছিল ভাষণের নির্যাস। বাকিরা ইংরাজিতে বললেও জ্যোতিবাবু সেদিন পরিষ্কার বাংলাতেই বলেছিলেন। বাকিরা চায়ের জগতের দিকপাল। চা সম্পর্কে তাঁদের বিস্তর জ্ঞান উগরে দিচ্ছিলেন। জ্যোতিবাবুও চাইলে সেক্রেটারিকে দিয়ে চা নিয়ে একটা জ্ঞানগর্ভ ভাষণ তৈরি করে আনতে পারতেন। চায়ের বাণিজ্য, চা শিল্পের সম্ভাবনা, সঙ্কট, সরকারি পরিকল্পনা–‌এসব নিয়ে নিজের ঢাক পেটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই রাস্তাতেই গেলেন না। একেবারে সহজ–‌সরল, সাদামাটা ভাষায় নিজের অনুভূতি তুলে ধরলেন। বলাই বাহুল্য, তাঁর কাছে সবাই সেদিন ম্লান। শুধুমাত্র সরলতা এবং অকপট স্বীকারোক্তির জন্যই তিনি বাকিদের থেকে আলাদা। তাঁর দলের আর কাউকে এত সহজ ভাষায় কথা বলতে শুনিনি।

কবিতাগুলো বেঁচে থাক গান হয়ে

মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়, আবার রাগও হয়। বাংলা ছবি আপনাকে সেভাবে ব্যবহারই করতে পারল না। ‘সেদিন চৈত্রমাস’ ছবির কথা মনে পড়ছে। আপনার কণ্ঠে অসাধারণ একটা গান দিয়েছিলেন সুমন—‘সূর্য তাকেই দেখতে চায়, আকাশ তাকেই ডাক পাঠায়।’ গানটি যেন আপনার জন্যই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে আর সেভাবে ব্যবহার করা হল না কেন? কারা সঙ্গীত পরিচালনা করেন, তাঁরা কী চান, জানতে খুব ইচ্ছে করে।

হারিয়ে গেল হলুদ ট্যাক্সি, হারিয়ে গেলেন সর্দারজিরাও

কলকাতা থেকে অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক রাস্তায় ট্রাম দেখা যায় না। শীত এলে কাবুলিওয়ালা দেখা যায় না। রাস্তার ধারে খটাখট টাইপ রাইটার দেখা যায় না। সেই সর্দারজি ড্রাইভারদেরও আর...

হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির সরণি বেয়ে ….

জীবনে চলার পথে হারিয়ে যাওয়া কোনও বন্ধুর সেই দুষ্টুমির কথা উঠে আসতেই পারে। কোনও মাস্টারমশাইয়ের ধমক বা স্নেহের শাসন, সরস্বতী পুজো বা দুর্গা পুজোর ছোট ছোট ঘটনা, যেগুলো মাঝে মাঝেই মনে পড়ে যায়। লড়াইয়ের দিনগুলোয় কারা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত? জীবনের এতটা পথ পেরিয়ে আসার পর যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে ইচ্ছে করে, সেই দরজা খোলা থাক।

ফিরে এসো, চিঠি

চিঠির জন্য আলাদা একটা দিন আছে। পয়লা সেপ্টেম্বর। যেহেতু চিঠি লেখা হারিয়ে গেছে, তাই দিনটা নিয়েও তেমন হইচই নেই। চিঠি দিবসে চিঠির সেকাল–‌একাল নিয়েই আস্ত একটা লেখা। লিখেছেন স্বরূপ গোস্বামী।।

না বোঝা সেই স্বাধীনতাটাই ঢের ভাল ছিল

স্বাধীনতা দিবস। একেক বয়সে একেক চেহারায় হাজির হয়। ছোটবেলায় ফুল নিয়ে স্কুলে যাওয়া। চকোলেট নিয়ে বাড়ি ফেরা। একটু বড় হয়ে, লুচি–‌আলুর দম। না বুঝে পালন করা সেই স্বাধীনতা দিবসের নস্টালজিয়া নিয়ে লিখলেন অন্তরা চৌধুরী।

কেউ কাউকে চিঠি লেখে না

লোকে চিঠি লিখতেই ভুলে গেছে। কিন্তু ভোরে উঠে যদি চিঠি লেখেন, তাহলে কেমন হয়? এই নিয়ে লিখেছেন মনোবিদ কুণাল সাহা।

মিল্লার সার্টিফিকেট, কী জানি বাবলুদার মনে আছে কিনা

সেটাই ছিল সুব্রত ভট্টাচার্যর শেষ বছর। ১৭ বছর খেলা হয়ে গেছে। রজার মিল্লার কাছে প্রশ্ন এল, সুব্রতকে কেমন দেখলেন?‌ বেচারা মিল্লা!‌ বেমালুম বলে দিলেন, প্রমিশিং, ব্রাইট ফিউচার। এমনই স্মৃতি তুলে আনলেন রজত বসু।

আপনি কৃশানু দে?‌ উনি বললেন, কোনও সন্দেহ আছে!‌

বললাম, আমি আপনার ফ্যান। উনি হেঁসে বললেন, এমন ফ্যান যে চিনতেই পারছিলে না! আমি বললাম, না, মানে আপনাকে চোখের সামনে দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। উনি বিশ্বাস করলেন। একটা বইয়ের পাতায় বেশ কয়েকটা সই দিয়েছিলেন। আরও একবার দেখা হয়েছিল। অনেক লোকের মাঝেও উনি ঠিক চিনতে পেরেছিলেন।

ছোট্ট একটা রেডিও, টুকরো টুকরো কত ছবি

১৩ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব বেতার দিবস। অনেকের স্মৃতিতে রয়ে গেছে কাঠের বাক্সের সেই রেডিও। এখন রেডিওতে মন কী বাত হয়। কিন্তু সেই ফেলে আসা রেডিওকে নিয়ে আমাদের মনের কথাটা ঠিক কী?‌ নস্টালজিয়ায় মোড়া দারুণ এক লেখা উপহার দিলেন সন্দীপ লায়েক।