অজয় কুমার
এবার আর তেমন দম বন্ধ নেই। কারও নিশ্বাস নিতে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। কারণটা পরিষ্কার। বিজেপি মোটামুটি বুঝিয়ে দিয়েছিল, এবার তৃণমূল থেকে আসা টিকিট না পাওয়া প্রার্থীদের জন্য ঢালাও দরজা খোলা থাকবে না। হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসে টিকিট নিয়ে চলে গেলাম, এবার আর তেমনটা হবে না। গোপনে কেউ কেউ যে যোগাযোগ করেননি, এমন নয়। দরজায় ঝাক্কা না হোক, টোকা তো নিশ্চিতভাবেই মেরেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু দরজা খুলবে না বুঝে, আবার ঝাঁকের কই ঝাঁকে মিশে গেছেন।
তৃণমূলের আগেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিল বিজেপি। এটা নিশ্চিতভাবে বড় পদক্ষেপ। আইপ্যাক আসার পর তৃণমূল এখন অনেকটাই গোছানো। অনেক আগে থেকেই প্রাথমিকভাবে প্রার্থীতালিকা তৈরি। যাঁরা টিকিট পেতে পারেন, তাঁদের কাছে গোপনে বার্তাও চলে গেছে। কারা বাদ পড়তে পারেন, তাও মোটামুটি অনেকটাই ঠিক হয়ে আছে। তবু প্রার্থীঘোষণায় বিজেপির থেকে পিছিয়ে কেন? কিছুটা সতর্কতা থেকেই এমন বিলম্ব। আসলে, টিকিট না পেলেই অনেকে বিজেপি–তে ভিড়তে পারেন, এমন একটা আশঙ্কা তো ছিলই। বিজেপি যদি আগে ঘোষণা করে দেয়, তাহলে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কম। হয়তো সেই কারণেই অপেক্ষা, আগে বিজেপি ঘোষণা করুক। তাছাড়া, বিজেপি ঘোষণার পর তালিকা ঘোষণা হওয়ার একটা বাড়তি সুবিধাও আছে। কাকে কোথায় প্রার্থী করা হচ্ছে, সেটা বুঝে নিয়ে শেষপর্বে দু–একটা অদল–বদলও করা যাবে।
বিজেপির বড় চমক অবশ্যই শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নন্দীগ্রামে দাঁড়াবেন, তা তো জানাই ছিল। কিন্তু পাশাপাশি ভবানীপুরেও তাঁকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বড়সড় ঝুঁকিই নিয়েছে বিজেপি। কোনও সন্দেহ নেই, শুভেন্দু নিজেও যথেষ্ট সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আগেরবার মমতা ব্যানার্জির নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে যতটা সাহসিকতার পরিচায় দিয়েছিলেন, শুভেন্দুর এই ভূমিকা আরও বেশি দুঃসাহসী। ভবানীপুরে যতই তৃণমূলের দাপট থাকুক, শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্তে নিশ্চিতভাবেই চাপ বাড়বে। বিজেপির আর কেউ এমন ঝুঁকি নিতেন বলে মনে হয় না।
তৃণমূল থেকে শেষপর্বে এসে যোগ দেওয়া নেতাদের নাম যে থাকবে না, এটা মোটামুটি জানাই ছিল। এমনকী রুপোলি পর্দার তারকাদের ভিড়ও এবার নেই। যাঁরা বিজেপির পরিচিত মুখ, তাঁরাই প্রার্থী। পাঁচবছর আগে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের ঝাঁকে ঝাঁকে টিকিট দিয়ে যে ভুল করেছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি নেই। হয়তো প্রার্থীরা অনেকেই অখ্যাত, অপরিচিত। কিন্তু এলাকার নানা সমীকরণে তাঁরা লড়াই করতে পারবেন। যদিও পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। কয়েকটি আসনে নাম ঘোষণা এখনও বাকি। সমাজের বিশিষ্ট কিছু মানুষকে প্রার্থী করার চেষ্টা হতে পারে। তবে সেখানেও বড় কোনও চমক না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। আসলে, চমক না থাকাটাই এবার চমক। সব দলই ভরসা রাখছেন রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর। তারকাদের এনে ভিড় করার থেকে দলের পুরনো লোকেদের টিকিট দেওয়া অনেক ভাল।
বিজেপি কতদূর যাবে, সংশয় থাকবেই। এসআইআর কতটা সুফল দেবে, কতটা বিপাকে ফেলবে, তা নিয়েও কৌতূহল থাকবে। কিন্তু দল ভাঙিয়ে প্রার্থী করার প্রবণতা যে কমেছে, এটা বাংলার গণতন্ত্রের পক্ষে নিঃসন্দেহে ইতিবাচক একটা দিক।
