কেউ কারও ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলে না

মনোনয়ন জমা পড়লেই প্রার্থীদের সম্পর্কে নানা তথ্য সামনে আসছে। তার কিছু কিছু বিষয় গণমাধ্যমেও উঠে আসছে। তবে জরুরি বিষয়গুলির থেকেও অবান্তর বিষয় যেন বেশি করে জায়গা পাচ্ছে। কত গ্রাম গয়না আছে, স্ত্রীর নামে কত গ্রাম গয়না আছে, তা ফলাও করে লেখা হচ্ছে। অথচ, প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকটা উহ্য থেকে যাচ্ছে।

আমার মনে হয়, গণতন্ত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখটা খুব জরুরি। কে কতদূর লেখাপড়া করেছেন, সেটা ভোটারদের জানা উচিত। অন্তত কার কত গ্রাম গয়না আছে, তার থেকে শিক্ষা কতটা আছে, এটা জানা অনেক বেশি জরুরি। কার কী ডিগ্রি, সেটাই তাঁর যোগ্যতার একমাত্র মানদণ্ড নয়। কেউ এম এ পাস করলেই মানেই তিনি বিরাট শিক্ষিত, এমনটাও নয়। কিন্তু এই সময়ে দাঁড়িয়ে যদি কেউ মাধ্যমিক পাসও না হয়ে থাকেন, তাহলে সেটা সত্যিই উদ্বেগের। আচ্ছা, এমন মানুষ কি সত্যিই দেশের বা সমাজের বিরাট কোনও উপকার করতে পারবেন?‌

বিধানসভা বা লোকসভাকে বলা হয় আইনসভা। অর্থাৎ, সেখানে আইন তৈরি হয়। যাঁরা আইন তৈরি করছেন, যাঁরা সংবিধান সংশোধন করছেন, তাঁদের ন্যূনতম শিক্ষাটুকু থাকবে না?‌ কোন আইন তৈরি হচ্ছে, কোন আইনের পরিবর্তন হচ্ছে, এটুকু বোঝার মতো বিদ্যেটুকুও যদি না থাকে, এমন মানুষদের আইনসভায় পাঠানো কি খুব জরুরি?‌

অনেকেই আছেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যে তথ্য দেন। কারণ, তাঁরা জানেন, এইসব বিষয় নিয়ে তদন্ত হবে না। এর জন্য সদস্যপদ খারিজও হবে না। যেমন, আমাদের প্রধামন্ত্রীর কথাই ধরা যাক। তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে এমএ করেছেন, যে বিষয়টি পৃথিবীর কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোই হত না। তাঁর কোনও সহপাঠী নেই। কোনও জুনিয়র নেই, কোনও সিনিয়র নেই। এমন কৃতী ছাত্রের কোনও শিক্ষক নেই। কেউ প্রশ্ন তুললেই সলিসিটর জেনারেল দাঁড়িয়ে পড়েন। সেই বছরের কোনও পরিসংখ্যান নাকি দেওয়া যাবে না। আদালতও মরিয়া হয়ে পড়ে এই কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে। অথচ, প্রধানমন্ত্রীর এই ডিগ্রি কেলেঙ্কারি নিয়ে অদ্ভুত নীরব তৃণমূল। কারণ, তাঁর ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তুললে কোনও এক যুবরাজের ডিগ্রি নিয়েও টান পড়বে। যিনি বেমালুম নিজেকে এমবিএ বলে দাবি করেন। অথচ, সেই ডিগ্রির কোনও বৈধতাই নেই। কী আশ্চর্য!‌ বিজেপি এত বিষয় নিয়ে সোচ্চার। অথচ, সেই যুবরাজের ডিগ্রি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় না। কারণ, তাঁরাও জানেন, যুবরাজের ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তুললে মোদি বিপদে পড়ে যাবেন। কী অদ্ভুত এক বোঝাপড়া।

নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ, কেউ হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার যে দাবি করছেন, তার স্বপক্ষে উপযুক্ত নথিও জমা দিতে বলা হোক। কোনও অভিযোগ এলে সেই নথির পরীক্ষা হোক। প্রয়োজনীয় তদন্তের পর যদি দেখা যায়, ওই দাবি ভুয়ো, তাহলে তাঁর বিধায়ক বা সাংসদ পদ খারিজ করা হোক।

Previous post আইপিএল যতটা তরুণদের, ততটাই তারকাদেরও
Next post ডিম রবে নিষ্ফলের, হতাশের দলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *