একটা সময় সন্তোষ ট্রফিতে বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিত্য নৈমিত্তিক এক ঘটনা। কারা কতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এই তালিকা করতে বসলে বাংলার ধারে কাছেও অন্য কোনও দলকে পাওয়া যাবে না। কিন্তু গত কয়েক দশকে এই ছবিটা অনেকটাই বিবর্ণ।
শুরু হল বেঙ্গল টাইমসের নতুন বিভাগ— বইমেলার ডায়েরি। চলবে পুরো জানুয়ারি মাস জুড়েই। বইমেলার নানা ঘটনা, বিতর্ক যেমন থাকবে। তেমনই থাকবে কিছু স্মরণীয় বইয়ের আলোচনা। ১) পাঠকরাও অংশ নিতে পারেন।...
সুচিত্রার চরিত্রের অনেক অজানা দিক ও গল্প নিয়েই বিশেষ ই–ম্যাগাজিন। পিডিএফ দেওয়া হল। সঙ্গে দেওয়া হল ওয়েব লিঙ্ক। ডাউনলোড করলেই সহজে পড়া যাবে।
নাম কে ওয়াস্তে কয়েকটা লোকের ফেসবুক পোস্ট দেখে আমরা কী অবলীলায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলাম যে, বাংলাদেশের লোকেরা ভারতকে সহ্য করতে পারে না। একশ্রেণির বিকৃত মনের উন্মাদ সব দেশেই থাকে। তাঁদের সেই হুঙ্কারকে আমরা সেই দেশের আমজনতার কণ্ঠস্বর হিসেবে ধরে নিচ্ছি। এ যে আমাদের কতবড় অজ্ঞতা, তা আমরা বুঝতেও পারছি না।
এরা বিজেপির লেজুড়বৃত্তি করতে করতে নিজেদের কোথান এনে দাঁড় করিয়েছেন, নিজেরাও জানেন না। যে অসভ্যতা বিজেপির অ্যাজেন্ডা, সেটাকে এঁরা বোর্ডের অ্যাজেন্ডা বানিয়ে ফেলেছেন।
ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি হোক, এ নিয়ে কোনও মহলেই দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু তা করতে গিয়ে যে পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে, তা বেশ বিভ্রান্তিকর। এতবড় একটা কাজ আরও সময় নিয়ে, আরও প্রস্তুতি নিয়ে করা যেত। কী কী সমস্যা আসতে পারে, এলে কীভাবে তা সামাল দেওয়া যায়, সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা ছিল বলেও মনে হয় না।
শুধু বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় নয়; বর্ধমানের পানাগড়ের কাঁকসা গ্রামেও পৌষ সংক্রান্তির দিনও এই মুড়ি মেলা হয়। কাজেই মুড়ি খেলে স্ট্যাটাস বাড়ে বৈ কমে না। তাই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান, বীরভূমের লোকেরা জল দিয়ে মেখে মুড়ি খায় বলে নাখ সিঁটকোবেন না। বরং তাদের মতো করে মুড়ি খেয়ে আপনিও মুড়ি প্রেমী হয়ে উঠুন।
হ্যাঁ, এই ছিল ভাষণের নির্যাস। বাকিরা ইংরাজিতে বললেও জ্যোতিবাবু সেদিন পরিষ্কার বাংলাতেই বলেছিলেন। বাকিরা চায়ের জগতের দিকপাল। চা সম্পর্কে তাঁদের বিস্তর জ্ঞান উগরে দিচ্ছিলেন। জ্যোতিবাবুও চাইলে সেক্রেটারিকে দিয়ে চা নিয়ে একটা জ্ঞানগর্ভ ভাষণ তৈরি করে আনতে পারতেন। চায়ের বাণিজ্য, চা শিল্পের সম্ভাবনা, সঙ্কট, সরকারি পরিকল্পনা–এসব নিয়ে নিজের ঢাক পেটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই রাস্তাতেই গেলেন না। একেবারে সহজ–সরল, সাদামাটা ভাষায় নিজের অনুভূতি তুলে ধরলেন। বলাই বাহুল্য, তাঁর কাছে সবাই সেদিন ম্লান। শুধুমাত্র সরলতা এবং অকপট স্বীকারোক্তির জন্যই তিনি বাকিদের থেকে আলাদা। তাঁর দলের আর কাউকে এত সহজ ভাষায় কথা বলতে শুনিনি।
কিন্তু ওই যে ‘ইট হ্যাপেন্স’। একটি বাংলা কাগজে তার বাংলা তর্জমা হয়ে গেল ‘এমন তো কতই হয়।’ সেটাই দশকের পর দশক ধরে ভাষণে ভাষণে ছড়িয়ে গেল। কেউ কেউ নিজের মতো করে অতিরঞ্জিত করে বসলেন। আজও সেই অতিরঞ্জনের ট্রাডিশন চলছে। আজও কোথাও নারী নির্যাতন ঘটলে তৃণমূল নেতারা বলে থাকেন, ‘বাম আমলেও এসব হত। সেদিনের মুখ্যমন্ত্রী নির্লজ্জের মতো বলেছিলেন, এমন তো ঘটতেই পারে। এমন তো কতই হয়। এ নিয়ে হইচই করার কী আছে?’
সোশ্যাল মিডিয়ায় আচ্ছন্ন প্রজন্মের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, জ্যোতি বসু ঠিক কেমন ছিলেন। সিলেবাসেও নিজেকে ঢোকানোর চেষ্টা করেননি। নিজের কাজের ভিডিও করেও রাখেননি। ছবি তুলিয়েও রাখেননি। তাই ইউটিউব বা সবজান্তা গুগল ঘাঁটলেও বিরাট কিছু পাবেন না। ঢালাও বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারের আনুকূল্যে জ্যোতি বাবুদের ভেসে থাকতে হয় না। তাঁরা থেকে যান কাজে। তাঁরা থেকে যান চেতনায়। ‘জ্যোতি বসু, ছোট্ট নাম, কী বিরাট ব্যক্তিত্ব’।