নিঃশব্দে আরও একটা দোসরা অক্টোবর পেরিয়ে গেল। এবার ছিল শতবর্ষ। কিন্তু বাঙালির কোনও হেলদোল নেই। যথারীতি, এবারও নিঃশব্দেই পেরিয়ে গেল। কেন আমরা আত্মবিস্মৃত জাতি, আরও একবার বোঝা গেল। ছুটির দিনে আমরা দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ায় মেতে রইলাম। কিন্তু সেই স্মার্টফোনেই তো চাইলে তাঁর একটা সিনেমা দেখা যেত। ফোনে ঘাড় গুঁড়ে থাকা বাঙালিকে বিরক্ত করবেন না। আমরা একদিকে মেতে রইলাম পুজো উদ্বোধনে, অন্যদিকে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এর আন্দোলনে। বেচারা তপন সিনহা। শতবর্ষে পুজোও পেলেন না, জাস্টিসও পেলেন না।
সেই জরুরি অবস্থার পঞ্চাশ বছর। বড় অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটল আমাদের কলকাতায়। আরজি কর কাণ্ডের পর আন্দোলনরত পড়ুয়ারা গেলেন লালবাজার। পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে উপহার দিলেন প্রতীকী শিরদাঁড়া। সেইসঙ্গে তাঁদের দাবিসনদে ছিল, পুলিশ কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে। দিল্লির হাসপাতালে তখন অচৈতন্য অবস্থায় সীতারাম ইয়েচুরি। কোথায় যেন মিলে গেল জেএনইউ ও আরজি কর। কোথায় যেন মিলে গেলেন সেদিনের তরুণ সীতারাম আর আজকের প্রতিবাদী ছাত্ররা। ইতিহাস এভাবেই ফিরে ফিরে আসে। লড়াইয়ের ব্যাটন এভাবেই এক হাত থেকে অন্য হাতে পৌঁছে যায়।
জ্যোতি বসু, পবন চামলিং এর পাশআপাশি তিনিও দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন। ওড়িশার মানুষের জন্য এত কিছু করার পরও মানুষ তাঁকে ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে দিলেন। ওড়িয়া ভাষা না জেনেও ওড়িয়াদের হৃদয়ে তিনি থেকে যাবেন বহুদিন।