কখনও চিঠি লিখে, কখনও পায়ে হেঁটে গ্রাম ঘুরে, কখনও অলস রোদ গায়ে মেখে তিস্তার দিকে চেয়ে থেকে। এভাবেই দ্বিতীয় দিনটাও সুন্দর কেটে গেল। পরেরদিন ফেরার পালা। ফেরার দিন মানেই মন কেমন। তবে সরাসরি সমতল নয়, আরও একটা দিন, পাহাড়েরই অন্য কোনও ঠিকানায়। মন ফিরে যাচ্ছে সেই শান্ত পাহাড়ে। যেখানে টিভি চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজ নেই। আতঙ্কের সংক্রমণ নেই। যেখানে আপন মনে ময়ূর ডেকে চলেছে। যেখানে পায়ে পায়ে জঙ্গল পেরিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে যাওয়া যায়। যেখানে পায়ের তলা দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা।
ঘন শাল জঙ্গলের মাঝে পাথুরে লালমাটির পথ। সেই পথ ধরে প্রিয়জনের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে গহীন অরণ্যে। এত কাছ থেকে, এত নিজের করে প্রকৃতিকে বোধহয় ডুয়ার্সেও পাওয়া যায় না। কয়েক বছর আগেও এই জায়গাটি মাওবাদীদের ডেরা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। একটা চাপা আতঙ্কের চোরাস্রোত ছিল। সেই কারণেই মাঝে দীর্ঘিদিন পর্যটকদের আনাগোনাও প্রায় বন্ধই ছিল। কিন্তু এখন আর সেই আতঙ্ক নেই।
বিভিন্ন পত্রিকা মাঝে মাঝেই গল্প সংখ্যা প্রকাশ করে। বেঙ্গল টাইমস কি গল্প সংখ্যা প্রকাশ করতে পারে না! আলবাত পারে। তাতে হয়তো নামী লেখকদের নামের ভীড় থাকবে না। কিন্তু গল্পের আমেজ তো থাকবে। বেঙ্গল টাইমসের যাঁরা নিয়মিত লেখক, তাঁদেরই কিছু গল্প নিয়ে এবারের সংকলন। বিশেষ ভৌতিক গল্প, প্রেমের গল্প, পুজোর গল্প, কিশোর গল্প— এমন তকমা এঁটে নয়। চেষ্টা করা হয়েছে নানা স্বাদের গল্পকে দুই মলাটের মধ্যে আনার। গল্পের সরণিতে আপনার যাত্রা শুরু হোক।
বাংলাদেশের কোন এক প্রাক্তন সেনা যুদ্ধের হুঙ্কার দিলেন। অমনি আমাদের চ্যানেলে সন্ধের প্রাইম টাইমে রীতিমতো গ্রাফিক্স করে দেখানো হল, আমাদের হাতে কটা সাবমেরিন, বাংলাদেশের হাতে কটা। আমাদের কটা ফাইটার প্লেন, বাংলাদেশের কটা। আমাদের নৌবাহিনিতে কজন কাজ করে, বাংলাদেশে কজন। অর্থাৎ, দু’ঘণ্টা ধরে বোঝানো হল, ভারত বাংলাদেশের থেকে সামরিক শক্তিতে এগিয়ে। বিস্তর গবেষণা করিয়া, গবেষকরা এই সিদ্ধান্ত উপনীত হইলেন যে, গরু ঘাস খায়।
এতদিন শুনে আসতাম, ভারতকে নাকি সবাই ভয় পায়। আমেরিকা, চীন, জাপান সবাই নাকি ভারতকে ভয় পাচ্ছে। গত কয়েকমাসে অন্তত এটুকু বোঝা গেল, পাশের পুঁচকে রাজ্য বাংলাদেশও মোদিকে পাত্তা দেয় না। তাঁদের সরকারের কর্মকাণ্ড অবশ্যই নিন্দনীয়। কিন্তু তাঁরা যে ভারতকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছে না, এটা অন্তত পরিষ্কার।
হরিশ মুখার্জি বাঙালি এখন আর নিজের কানে হাত দেয় না। সে কাকের পেছনেই ছোটে। হঠাৎ, এমন দুটো লাইন পড়ে একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো কঠিন। যাঁরা মেলানোর, তাঁরা ঠিক মেলাতে পারেন।...
একদিকে বয়ে চলেছে সুবর্ণরেখা। অন্যদিকে সারি সারি পাহাড়ের মিছিল। তারই মাঝে পেয়ে গেলাম আরণ্যকের সেই দোবরু পান্নাকে।
খোলা ছাদ, একেবারেই সাদামাটা একটা রেস্তোরাঁ। বলে না দিলে আলাদা করে বোঝার উপায়ও নেই। ম্যাল থেকে একটু নেমে গেলেই চোখে পড়বে রেস্তোরাঁটা। সেখানকার প্রিয় খাদ্য নাকি চিকেন সসেজ। যারা আসে, এটাই আগে খায়।
আন্তর্জাতিক সাফল্য বা স্বীকৃতি না এলে বাঙালি ঘরের মানুষকে ঠিক চেনে না। রবীন্দ্রনাথ নোবেল না পেলে তিনি কি এতখানি শ্রদ্ধার পাত্র হতেন? আর দশজন কবির সঙ্গে কি আমরা তাঁকে গুলিয়ে ফেলতাম না! সত্যজিৎ রায় অস্কার না পেলে তিনি কি আমাদের কাছে ‘বিশ্ববরেণ্য’ হয়ে উঠতেন! অর্থাৎ, বিশ্ব যখন চিনিয়ে দেয়, তখন আমরা চিনতে শুরু করি।
এটা ঘটনা, শরিকদের বেশ কিছু আসনে জয়ের পেছনে সিপিএমের ভূমিকাই প্রধান। সিপিএম আশি, তো শরিকরা হয়তো কুড়ি। কিন্তু সব জায়গার চিত্রটা এমন নয়। কোচবিহারে ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্তি বা চা–বলয়ে আরএসপির সাংগঠনিক শক্তি কতখানি, তা কলকাতায় বসে বোঝার কথা নয়। সাতের দশক বা আটের দশকের কথা নয়। সাম্প্রতিক অতীতেও বহুবার তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।