সরস্বতী মানে কি শুধুই মেয়েদের শাড়ি পরা আর ছেলেদের মেয়ে দেখা? তার বাইরেও আরও অনেককিছু। পরের দিন অরন্ধন। যৌথ পরিবারে সে যেন এক মহারন্ধনের কর্মযজ্ঞ। ফেলে আসা সময়ে উকি দিয়ে টুকরো টুকরো মুহূর্তগুলো ফিরে দেখা। লিখলেন অন্তরা চৌধুরি।
ইচ্ছে করছে স্প্যানিশ ভাষায় গোটা কয়েক গালাগাল শিখে গিল্ডকর্তাদের শোনাতে। দেখি, কেমন বুঝতে পারেন। আমি নিশ্চিত, ত্রিদিববাবুরা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে যেমন দাঁত কেলিয়ে হাসেন, আমার স্প্যানিশ গালাগাল শুনলেও তেমনিই হাসবেন।
এখন একটা অদ্ভুত সময়। বিশেষ একজন যে সুরে কথা বলেন, সবাই সেই সুরেই কথা বলেন। তাঁর কথাই ঠিক, এটা প্রমাণ করতেই ব্যস্ত থাকেন। তাই কবি–সাহিত্যিকদের স্বাধীন কণ্ঠস্বর এখন তেমন খুঁজে পাই না। তাই ময়দানকে ঘিরে অনেকের নস্টালজিয়া থাকলেও তা প্রকাশ করতে দেখা যায় না। কী জানি, যদি তিনি রেগে যান!
এ কোন বইমেলা, যেখানে ঋতুপর্ণার পেছনে এমন ভিড়, অথচ জয় গোস্বামীকে একা একা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়! কেউ ফিরেও তাকায় না। কবি নিজেও তাকিয়ে রইলেন ভিড়ের দিকে। ভিড় চলে গেল। তিনি রাস্তার ধারে একাকী দাঁড়িয়েই রইলেন। কী ভাবছিলেন, মনে মনে কোনও কবিতা জন্ম নিচ্ছিল কিনা জানি না। হ্যাঁ, এই হুড়োহুড়ি, এই আদেখলাপনা—এটাই হয়ত মূলস্রোত বইমেলা। নির্বাক মুখ নিয়ে একাকী কবির দাঁড়িয়ে থাকা, এটাও বইমেলা।
নতুন বছরে বাঙালির নতুন পার্বণ— বইমেলা। দেখতে দেখতে শুরুও হয়ে গেল। স্বভাবতই বইপত্র নিয়ে আলোচনা চলবে। অনেকেই নতুন নতুন বই কিনবেন। একে একে পড়াও শুরু হয়ে যাবে। কোন বইটা কেমন...
ছবি স্ক্যান হয়ে এল। সম্পাদক মশাই তার তলায় ক্যাপশান করলেন— বই চুরিতে পিছিয়ে নেই বিদেশিরাও। ভেবে দেখুন, কোন কপির সঙ্গে কোন ছবি! তার সঙ্গে কী অসাধারণ একটা ক্যাপশন। ভাগ্যিস, বিদেশিরা বাংলা পড়তে পারে না।
বইমেলা উদ্বোধনের আগেই তিনি দলীয় মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র স্টল উদ্বোধন করে ফেললেন। ভাবা যায়! আগে ‘জাগো বাংলা’র উদ্বোধন, তারপর বইমেলার উদ্বোধন! বইমেলা আগে উদ্বোধন করার পর নিজের দলীয় স্টল উদ্বোধন করা যেত না? কোনটা আগে করতে হয়, কোনটা পরে, এই ন্যূনতম শালীনতার বোধটুকু নেই! তিনি কিনা বইমেলার উদ্বোধন করেন!