নন্দ ঘোষের কড়চা
ব্যাপারটা জল্পনার পর্যায়েই ছিল। আপনিই সামনে এনে দিলেন। জানিয়ে দিলেন, বায়োপিকের ব্যাপারে সৃজিত মুখার্জি নাকি আপনার সঙ্গে কথা বলেই রেখেছেন।
অনেকদিন আগে থেকেই এরকম একটা জল্পনা ছিল। সৃজিত নিজেও বাজারে এমন খবর ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। ধোনির বায়োপিক হল। শচীনের বায়োপিক হল। এমনকী আজহারেরও হল। আপনার বায়োপিক হবে, এতে আশ্চর্যের কী আছে! আপনার জীবনে এমন এমন নাটকীয় উপাদান, সারা দেশেই হইচই ফেলতে পারে। এদের সবার বায়োপিককে ছাপিয়ে যেতে পারে আপনার বায়োপিক।
কিন্তু দোহাই, সৃজিত মুখার্জির পাল্লায় পড়বেন না। তাহলেই সর্বনাশ। কখনও ধারাভাষ্য, কখনও দাদাগিরি, কখনও সিএবি, কখনও বিসিসিআই–এসব নিয়ে আপনি মহা ব্যস্ত। তার ওপর এটা–ওটা উদ্বোধন তো আছেই। কত লোকের কত আবদার রাখতে হয়! সিনেমা হলে যাবেন, সে সময়ও নেই। আর উপায়ও নেই। কিন্তু আপনি কি সৃজিত মুখার্জির শেষ কয়েক বছরে করা কোনও ছবি দেখেছেন? তাহলে বুঝতেন, রিসার্চের নামে কী কী গাঁজাখুরি করে চলেছেন এই পুচ্ছপাকা পরিচালক। কয়েকটা ছবির নাম বলা যাক— নির্বাক, জুলফিকার, ইয়েতি অভিযান, রাজকাহিনী, এক যে ছিল রাজা। গত কয়েক বছরে একমাত্র উমা ছবিটাই কিছুটা পাতে দেওয়ার মতো। বাকিগুলো সব পুচ্ছপাকামি। এগুলো দেখুন। হ্যাঁ, কষ্ট করে হলেও দেখুন। তাহলেই আপনার সব ভক্তি উড়ে যাবে।
এবার ভেবে দেখুন, আপনার ক্রিকেট জীবন, আপনার দুরন্ত লড়াই, আপনার বর্ণময় কামব্যাক–এগুলো নিয়ে যদি কেউ এরকম গাঁজাখুরি কাণ্ড করে, কেমন লাগবে? তখন আর আফশোস ছাড়া কিছুই করার থাকবে না। তাই এখন থেকেই সাবধান হোন। জানি, সৃজিত আপনার পেছনে লেগে থাকবে। কিন্তু আপনার বায়োপিক কে করবে, সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। এটা তো জামা, প্যান্ট বা জুতো নয় যে, পছন্দ হল না বলে নতুন কিনে ফেললাম। বায়োপিক জীবনে একবারই হবে। সেটা যেন ঠিকঠাক হয়, তা দেখা আপনারও দায়িত্ব। পরে আফশোস করার থেকে এখনই সচেতন হওয়া ভাল। একটি বিনীত পরামর্শ, দোহাই, সৃজিতের পাল্লায় পড়বেন না।


