‌কংগ্রেসের সৌজন্য ও কিছু নির্মম পরিসংখ্যান

বেঙ্গল টাইমস প্রতিবেদন:‌ কংগ্রেস নাকি পাল্টা সৌজন্য দেখাল। বামেরা তাঁদের জেতা চার আসনে প্রার্থী দেয়নি। তার বদলে কংগ্রেসও নাকি পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিল না। এই পাঁচটি কেন্দ্র হল বোলপুর, ডায়মন্ড হারবার, আসানসোল, তমলুক, বিষ্ণুপুর।
বঙ্গজ মূলস্রোত মিডিয়া স্বভাবতই এটাকে সৌজন্য হিসেবে দেখাচ্ছে। কংগ্রেস বিরাট আত্মত্যাগ করল, এরকম একটা বার্তাও কেউ কেউ প্রচার করছেন। আসলে, কোন আসনের কী চরিত্র, কোন আসনে কার কী শক্তি, এসব বোঝার কোনও দায় নেই।
একনজরে কংগ্রেসের ছেড়ে রাখা পাঁচটি কেন্দ্র ও বামেদের ছেড়ে রাখা চারটি কেন্দ্রের দিকে চোখ বোলানো যাক। ২০১৬ তে জোট করে লড়া হয়েছিল। ফলে, কংগ্রেসের ভোটে কত সিপিএমের ভোট মিশেছিল, বোঝার উপায় নেই। ঠিক তেমনি, সিপিএমের ভোটের কত কং ভোট মিশেছিল, সেটাও বোঝার উপায় নেই। তার থেকে ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান কিছুটা আলো দেখাতে পারে। কারণ, সেবার বাম ও কংগ্রেস আলাদা আলাদা লড়েছিল।

vote7

বোলপুর— বাম ৩ লাখ ৯৪ হাজার। কংগ্রেস ৪৬ হাজার।

ডায়মন্ড হারবার— বাম ৪ লাখ ৩৭ হাজার। কংগ্রেস ৬৩ হাজার।

আসানসোল— ৩ লাখ ৪৯ হাজার। কংগ্রেস ৪৮ হাজার।

তমলুক— বাম ৪ লাখ ৭০ হাজার। কংগ্রেস ২৯ হাজার।

বিষ্ণুপুর— বাম ৪ লাখ ৫৯ হাজার। কংগ্রেস ২৭ হাজার।
তফাতটা বোঝা যাচ্ছে?‌ এই পাঁচ কেন্দ্র মিলিয়ে কংগ্রেসের ভোট মোটামুটি ২ লাখ ১১ হাজারের মতো। সেখানে বামেদের ভোট ২১ লাখ ৯ হাজারের বেশি। অর্থাৎ, কংগ্রেসের যা ভোট, বামেদের ভোট তার দশ গুনেরও বেশি।

এবার বামেদের ছাড়া আসনে বামেরা কত ভোট পেয়েছিল, সেদিকে একবার চোখ বোলান।

মালদা উত্তর — বামেদের ভোট ৩ লাখ ২২ হাজার।
মালদা দক্ষিণ— বামেদের ভোট ২ লাখ ৯ হাজার।
জঙ্গিপুর— বামেদের ভোট ৩ লাখ ৭০ হাজার।
বহরমপুর— বামেদের ভোট ২ লাখ ২৫ হাজার।

অর্থাৎ, এই চার কেন্দ্রে বামেদের ভোট ১১ লাখ ২৬ হাজার।

তাহলে, অঙ্কটা কী দাঁড়াল?‌ কংগ্রেসের ছাড়া পাঁচ আসনে ভোট ২ লাখ ৯ হাজার। কিন্তু বামেদের ছাড়া ৪ আসনের ভোট ১১ লাখ ২৬ হাজার।

এগুলো কোনও গোপন পরিসংখ্যান নয়। গণশক্তিতে ছাপা পরিসংখ্যানও নয়। হাতের স্মার্টফোন থেকে একটু খুঁজলে খুব সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু কে আর খুঁজতে যায়!‌ খুঁজতে গেলে যে অনেক অপ্রিয় তথ্য উঠে আসবে।

Previous post ‌সহজ সত্যিটা দীপা যদি বুঝতেন!‌
Next post ভিন্ন স্বাদের ভ্রমণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *