অমিতাভ বচ্চনকে সাম্মানিক ডিলিট দিতে চেয়েছিল রবীন্দ্র ভারতী। সস্তা চমকের এই উদ্যোগ ব্যুমেরাং হয়ে ফিলে এল। কোনও শিক্ষা নিল রবীন্দ্রভারতী? লিখেছেন সুমিত চক্রবর্তী।।
চমক আর থেমে থাকছে না। সবাইকেই কিছু না কিছু চমক দিতেই হবে। ছুটতেই হবে সস্তা প্রচারের পেছনে। সেই তালিকায় রবীন্দ্র ভারতীর মতো বিশ্ববিদ্যালয়ও বাদ পড়ছে না।
দুম করে ঘোষণা হয়ে গেল, সাম্মানিক ডিলিট দেওয়া হবে অমিতাভ বচ্চনকে। এমন নয় যে, অমিতাভ বচ্চন সাম্মানিক ডিলিটের অযোগ্য। ভারতীয় সিনেমায় তাঁর যা অবদান, তিনি পেতেই পারেন। কিন্তু রবীন্দ্র ভারতী যোগ্যতার স্বীকৃতি নয়, সস্তা চমক চেয়েছিল। সেটাই যেন ব্যুমেরাং হয়ে এল।
যাঁকে ডিলিট দেওয়া হবে, তিনি জানছেন না, কিন্তু ঘোষণা হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কাউকে ডিলিট দেওয়ার কথা ভাবতেই পারে। সেই প্রস্তাব আচার্য, তথা রাজ্যপালের কাছে পাঠাতে হয়। তিনি সম্মতি দিলে যাঁকে ডিলিট দেওয়া হবে, তাঁর সম্মতি নিতে হয়। তিনি সম্মতি জানালে, তারপর ঘোষণা হতে পারে। কিন্তু সেই ধৈর্য, সেই সংযম কেউই আর দেখাচ্ছেন না। কত তাড়াতাড়ি ঘোষণা করা যায়। কত তাড়াতাড়ি কৃতিত্ব নেওয়া যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছিল। রাজ্যপালের কাছে প্রস্তাব যাওয়ার আগেই উপাচার্য ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। পাছে অন্য কেউ কৃতিত্ব নিয়ে নেন! রবীন্দ্রভারতীকেও নতুন কোনও চমক দিতে হবে। তাই অমিতাভ বচ্চন। শেষপর্যন্ত কী হল? অমিতাভ জানিয়ে দিলেন, তিনি শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকবেন, আসতে পারবেন না। এদিকে, অনুপস্থিত কাউকে ডিলিট দিলে সেটাও কেমন একটা দৃষ্টিকটূ লাগে। তাই রাজ্যপাল জানিয়ে দিলেন, এই পরিস্থিতিতে যেন অমিতাভের নাম বাদ দেওয়া হয়।
শেষমেষ ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেও অমিতাভের নাম বাদ গেল। এই পরিস্থিতি কি এড়ানো যেত না? যদি তাড়াহুড়ো করে ঘোষণা না হত, যদি ন্যূনতম কিছু সিস্টেম মানা হত, তাহলে এমন লজ্জায় পড়তে হত না।
এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতি থেকে রবীন্দ্রভারতী কি কোনও শিক্ষা নিল? মনে হয় না। সস্তা চমকের অভ্যেস একবার এসে গেলে, এই মোহ থেকে বেরিয়ে আসা সত্যিই কঠিন।

