কীসের কমিটি, কীসের তদন্ত?‌

কী হবে ময়নাগুড়ির সেই প্রধানশিক্ষকের?‌ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ জানে না। শিক্ষামন্ত্রীও জানেন না। জানেন শুধু একজন। তিনি যা চাইবেন, তাই হবে। কারও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার নেই। এত কমিটি, এত তদন্ত, সবকিছুই নিছক প্রহসন। লিখেছেন ধীমান সাহা।

তদন্ত শুনলেই কেমন যেন গুলিয়ে ওঠে। ফল কী হবে, তার সঙ্গে তদন্তের কতটুকুই বা সম্পর্ক?‌ সোজা কথা, তিনি যা চাইবেন, তাই হবে। তাহলে এত ঘটা করে কমিটি, ঘটা করে তদন্তের কী মানে হয়!‌
ময়নাগুড়ি প্রশ্ন কেলেঙ্কারির কথাই ধরা যাক। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হরিদয়াল রায়ের কী শাস্তি হবে, কেউ জানে না। পুরো ব্যাপারটা ধামাচাপা পড়বে নাকি তিনি সাসপেন্ড হবেন?‌ জেল হবে নাকি প্রমোশন হবে, তাও কেউ জানে না। জানেন শুধু একজন।
মধ্যশক্ষা পর্ষদ ডেকে পাঠাল। সেই শিক্ষকের যুক্তি শোনা হল। কিন্তু মধ্যশক্ষা পর্ষদের কোনও ক্ষমতাই নেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নামেই পর্ষদ। না পারবেন শাস্তি দিতে, না পারবেন ছাড় দিতে। সিদ্ধান্ত ঝুলে রইল। ‘‌তিনি’‌ কী চাইছেন, সেটা বুঝে নিতে হবে না?‌
অতএব পর্ষদ সভাপতি ছুটলেন শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে। চাইলে সোমবার বিকাশ ভবনে ডাকতে পারতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এতই নাকি তৎপরতা যে, একটা দিনও নষ্ট করা যাবে না। তাই রবিবার শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে ছুটতে হল। শিক্ষামন্ত্রী সবকিছু শুনলেন। কিন্তু কী নির্দেশ দেবেন?‌ নিজেও জানেন না। তিনিও ঝুলিয়ে রাখলেন। আসলে ‘‌তিনি’‌ কী চাইছেন, সেটা যে শিক্ষামন্ত্রীরও অজানা।

haridayal

বল সেই মুখ্যমন্ত্রীর কোর্টেই যাবে। তাঁর মর্জি না বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পর্ষদ সভাপতিরও নেই, শিক্ষামন্ত্রীরও নেই। মুখ্যমন্ত্রী যদি মনে করেন, এটা বিরোধীদের চক্রান্ত, শিক্ষক এমন কিছু অপরাধ করেননি, তবে শিক্ষামন্ত্রীও সেটাই বলবেন। পর্ষদ সভাপতিও তাই বলবেন। সামনের বছর হয়ত আরও একবার শিক্ষারত্ন দিয়ে দেওয়া হতেও পারে। জাতীয় শিক্ষকের জন্য তাঁর নাম সুপারিশ হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আবার মুখ্যমন্ত্রী যদি মনে করেন, এই শিক্ষক খুব দুষ্টু লোক, একে শাস্তি দেওয়া দরকার। তাহলে নিমেশেই হয়ত গ্রেপ্তার করা হবে। কতরকম মামলা যে ঝোলানো হবে!‌ বারো বছর আগে কী অপরাধ করেছিলেন, সেই তালিকাও কবর খু্ঁড়ে বের করা হবে। বলা হবে, এগুলো সিপিএমের আমলেও হয়েছিল।

তাহলে এই যে এত তদন্ত হল। পর্ষদ সভাপতি এত কথা শুনলেন। জেলা শিক্ষা দপ্তর এত এত রিপোর্ট পাঠালো। কাগজে এতকিছু লেখা হল। চ্যানেলে এত অনুষ্ঠান হল। শিক্ষামন্ত্রী বাড়িতে ডেকে পাঠালেন। শিক্ষামন্ত্রী কী বুঝলেন, তা বলার সময় পাবেন?‌ দু লাইন বলতে না বলতেই তাঁকে থামিয়ে দেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী এগোবে বাকি চিত্রনাট্য।

এই প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ড ফের এই সত্যিটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। তদন্ত–‌টদন্তের কোনও মূল্য নেই। এতসব শোনার ধৈর্য, মানসিকতা বা ইচ্ছে, কোনওটাই মুখ্যমন্ত্রীর নেই। কিন্তু তিনি যা চাইবেন, তাই হবে। বাকিদের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ারই নেই।

Previous post অচেনা সৌমিত্রকে চেনার সুযোগ
Next post ইস্টবেঙ্গল, মহমেডানে নৈশালোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *