রাহুল বিশ্বাস
দেরিতে হলেও তা হলে বোধোদয় হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর। অবশ্য, একে বোধোদয় বলা যায় কিনা জানি না। কারণ, বুঝে হোক না বুঝে হোক, যে কোনও ব্যাপারে আলটপকা মন্তব্য করার ব্যাপারে তিনিও বেশ পারদর্শী। মানুষ ব্যস্ত, তাই হাঁসার সময় নেই। নইলে, সারাদিন অনেক হাসির উপাদান তিনি দিয়ে যান।
মাধ্যমিকের পর তাঁর নতুন বোধোদয়। কলকাতার ছেলেরা সোশাল মিডিয়ায় মগ্ন। তাই তাদের রেজাল্ট খারাপ। মন্ত্রীমশাইয়ের কথা শুনলে মনে হবে, জেলার ছেলেরা ইন্টারনেট নামক শব্দটাই বোধ হয় শোনেনি। সোশাল সাইট বোঝে একমাত্র কলকাতার ছেলেরা। আসলে, জেলা সম্পর্কে অনেকেরই কোনও ধারনা নেই। শিক্ষামন্ত্রীও ব্যতিক্রম নন।
সোশাল মিডিয়ার দাপট কলকাতায় যেমন আছে, জেলাতেও তেমনই আছে। মাধ্যমিকে নম্বরের ক্ষেত্রে যেমন জেলার ছেলেরা অনেক এগিয়ে, ঠিক তেমনি প্রযুক্তির ব্যবহারেও তারা অনেক এগিয়ে। পাঁচ বছর আগেও ছবিটা হয়ত এমন ছিল না। তখন কলকাতা আর জেলার ফারাক ছিল। কিন্তু এখন, অন্তত মোবাইল ব্যবহারে জেলা কোথাও পিছিয়ে নেই। বরং, জেলার একজন গড়পড়তা ছেলেও কান মুলে শিখিয়ে দেবে, কোন ফোনে কী ফিচার, কোথায় কোন অফার, কোনটা কেমনভাবে ডাউনলোড করতে হয়।
যাই হোক, অন্য প্রসঙ্গে আসি। পার্থবাবুর তাহলে মনে হয়েছে, সোশাল সাইটের জন্য ফলাফল খারাপ হচ্ছে। কথাটা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। জেলা হোক বা কলকাতা সব জায়গায় প্রভাব ফেলছে সোশাল মিডিয়া। এবং এই প্রভাবটা যত না ইতিবাচক, তার থেকে অনেক বেশি নেতিবাচক। স্কুল–কলেজের পরিবেশটাই পাল্টে যাচ্ছে। কিন্তু এর জন্য পার্থবাবুদের দায় কম নয়। তিনিই ঘটা করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ফ্রি ওয়াই ফাই চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। অনেক জায়গায় চালু হয়েও গিয়েছে। কতটুকু কাজে লেগেছে, আর কতটুকু অকাজে, সেই সমীক্ষা কখনও করেছেন?
ভারতীয় রেলও বিভিন্ন স্টেশনে ফ্রি ওয়াই ফাই চালু করেছিল। পাটনা স্টেশনে সমীক্ষা করতে গিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ। কী ফলাফল বেরিয়ে এসেছিল, সবাই জানেন। এই বাংলার কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কীভাবে নেট খরচ হয়েছে, একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন। কতটা শিক্ষামূলক কাজে, কতটা অন্য কাজে? আমি নিশ্চিত, অন্তত ৯৫ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে সোশাল মিডিয়া বা অন্যান্য ব্যাপারে। শিক্ষামূলক সার্ফিং পাঁচ শতাংশও হয়নি।
তাহলে, এই পরিবেশ কে তৈরি করল? কারা ঢাক পিটিয়ে ওয়াই ফাই জোন চালু করল? এতে যে শিক্ষার উন্নতি হবে না, বরং অবনতিই বেশি হবে, এই বোধটুকু যাঁদের নেই, তাঁরা রাজ্যের শিক্ষানীতি নিয়ন্ত্রণ করেন, এটাই বেশি দুশ্চিন্তার।

