পোস্টারে আগে থাকত সুচিত্রার নাম

আমরা মুখে বলি উত্তম–‌সুচিত্রা। পোস্টারে কিন্তু আগে থাকত সুচিত্রার নাম। এমন শর্তই দিতেন সুচিত্রা। আর সেটাই মেনে নিতে হত মহানায়ককে। সেই জুটির এমন ঠাণ্ডা লড়াইয়ের কথা তুলে আনলেন সংহিতা বারুই।।

বাংলা ছবির রোমান্টিক জুটি বলতে কাদের বোঝায় ? এই প্রশ্নটা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। সবার মুখে একটাই উত্তর উত্তম-সুচিত্রা। কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখুন তো, এমন জুটির কথা কোনও ছবির পোস্টারে বা টাইটেল কার্ডে দেখেছেন কিনা! শুরুর দিকের কয়েকটা ছবিতে হয়ত উত্তম- সুচিত্রা পাবেন। কিন্তু পরের দিকের ছবিগুলোর টাইটেল কার্ডে উত্তম-সুচিত্রা নয়। পাবেন সুচিত্রা- উত্তম।

uttam4

তাহলে, একটু খুলেই বলা যাক। প্রথম দিকের দু-একটা ছবি ছাড়া বাকি ছবি গুলোর পোস্টার লক্ষ করুন। এখন তো ইন্টারনেটের যুগ। একটু সার্চ করলেই অনেক ছবির পোস্টার পেয়ে যাবেন। টিভিতেও মাঝে মাঝেই পুরানো ছবি গুলো দেখায়। ঘরে ডিভিডি থাকলে তো কথাই নেই । আরও ভালো করে ছবিগুলো দেখুন। টাইটেল কার্ডের সবার আগে সুচিত্রা, তারপর উত্তম। এমনটা কেন হয়েছিল? পরিচালকরা কি তুকতাক বিশ্বাস করতেন? নাকি লেডিস ফার্স্ট এর তত্ত্ব মেনে চলতেন!

আসলে , এটা ছিল সুচিত্রার একটা শর্ত । পরিচালকদের কাছে তিনি শর্ত দিতেন, পোস্টারে আমার নাম উত্তম কুমারের আগে রাখতে হবে। উত্তম কুমার ক্রমশ মহানায়ক হয়ে উঠেছেন। পরিচালক- প্রযোজকরা চাইতেন, তাঁর ছবিতে উত্তম কুমার কাজ করুক। তাঁকে ভেবেই চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে। অথচ, সেই মহানায়ককেও কিনা সুচিত্রার দেওয়া শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে। অন্য কোনও নায়িকা যদি এমন শর্ত আরোপ করতেন, উত্তম কুমার নিশ্চয় তাঁর সঙ্গে ছবি করতেন না। অন্য নায়িকা এমন শর্ত দেওয়ার সাহসও পেতেন না। কিন্তু সুচিত্রা বরাবরই অন্যরকম। আর দশজনের সঙ্গে তাঁর অনেক ফারাক। তাই তিনি অবলীলায় শর্ত দিতে পারেন, আমার নাম আগে দিতে হবে। আর উত্তম কুমারকেও সেই শর্ত হজম করতে হয়।

uttam2

পরেদিকে আমরা ছবির টাইটেল কার্ডে অন্য একটা ব্যাপার দেখতে পাই। শুরুতে সুচিত্রার নাম। পরে একের পর এক পার্শ্ব অভিনেতার নাম। সবার শেষে লেখা “এবং উত্তম-কুমার”।

কেন এই ‘এবং উত্তম কুমার’? পরের দিকে মহানায়কেরও মনে হয়েছিল, আগে সুচিত্রার নাম থাকবে, এই শর্তটা তাঁর কাছেও কিছুটা অপমানজনক। তাই তিনিও পাল্টা কৌশল ঠিক করলেন। ঠিক করলেন সুচিত্রার ঠিক পরেও তাঁর নামও থাকবে না। সুচিত্রার পর ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্ধ্যারানী, ছায়াদেবী, কমল মিত্র, এসব নাম থাকুক। একেবারে শেষে থাকুক ‘এবং উত্তম কুমার’।

ভেবে দেখুন, পাওলি যদি বলেন, আমার নাম প্রসেনজিতের আগে থাকবে। বা, শ্রাবন্তী যদি বলেন, আমার নাম দেবের আগে থাকবে। প্রসেনজিৎ বা দেব কি মেনে নেবেন?‌ কিন্তু সেদিন উত্তম কুমারকেও মেনে নিতে হয়েছিল। এবং সেটা ছয়ের দশকে। যাঁরা বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, তাঁরা বরং ওই্সব ছবির পোস্টারগুলো একবার দেখে নিন।

Previous post বন্ধুকে বাঁচাতে গানও গাইতে হয়েছিল
Next post তবে কেমন হত তুমি বলো তো!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *