মিলিয়ে নেবেন, ইডি এবারও ‘‌কাঁচকলা’‌ করবে

রক্তিম মিত্র

এমন ঘটনা আগে কখনও দেখেছেন?‌ এমন ঘটনার কথা কখনও শুনেছেন?‌ ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। একজন মুখ্যমন্ত্রী কিনা ইডির কাছ থেকে ফাইল ছিনতাই করে নিয়ে চলে এলেন।

অনেকেই ধিক্কার দিচ্ছেন। অনেকে ভেবে নিয়েছেন, এবার ইডি নিশ্চয় কিছু একটা ব্যবস্থা নেবে। কেউ কেউ ধরেই নিয়েছেন, এবার মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হবে। কেউ ভাবছেন, এবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে যাবে।

লিখে রাখুন, এসব কিছুই হবে না। ইডি এবারও আস্ত একটি অস্বডিম্ব প্রসব করবে। নিশ্চিত থাকুন, এবারও প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা দু–‌একদিন বাতেলা দেবেন। এর বেশি তাঁদের কিছুই করার নেই। কোর্ট দিনের পর দিন পিছিয়ে যাবে। এক মাস যেতে না যেতেই সবাই বেমালুম ভুলেও যাবেন।

এ কি যেমন–‌তেমন ব্যাপার?‌ ইডি আধিকারিকদের হাত থেকে কিনা ফাইল কেড়ে নিয়ে চলে আসছেন? টিভিতে ভাষণ দিচ্ছেন! আচ্ছা, মমতা ব্যানার্জির এত সাহস হল কী করে?‌ তাঁর ডিজি, নগরপালদেরই বা এত সাহস হল কী করে?‌

আসলে, কেউ কেউ যখন অতিরিক্ত কাপুরুষ হয়ে ওঠেন, তখন কারও কারও সাহস বেড়ে যায়। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। সিবিআই বা ইডির দৌড় কতদূর, তা মুখ্যমন্ত্রী বা এই পুলিশ কর্তারা বেশ ভালই জানেন। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারও এসব ক্ষেত্রে কতখানি কাপুরুষ, সেটাও তাঁদের অজানা নয়। তাঁরা সত্যিই জানেন, ইডি কাঁচকলা করবে।

শুনতে খারাপ লাগছে। লিখতে আরও বেশি খারাপ লাগছে। একটি কেন্দ্রীয় এজেন্সি সম্পর্কে এমন বিশেষণ সত্যিই কাঙ্খিত নয়। এই জাতীয় শব্দচয়ন অন্তত ইডি বা সিবিআই সম্পর্কে করা উচিত নয়। কিন্তু কী আর করা যাবে। ইডি বা সিবিআই–‌কে এর থেকে ভদ্র ভাষায় কিছু বলা যায় না। তাঁরা নিজেরাই নিজেদের এই জায়গায় নামিয়ে এনেছেন।

যাঁরা ইডি, সিবিআই–‌কে চালান, তাঁরা এই দুই প্রতিষ্ঠানকে এতটাই ঘৃণার জায়গায় নামিয়ে এনেছেন। এবারও মিলিয়ে নেবেন, ইডি কাঁচকলাই করবে। মমতা ব্যানার্জি এসে ইডির কাছ থেকে শুধু ফাইল কেড়ে নিয়ে যাননি। তিনি ইডিকে কার্যত ধর্ষণ করে গেছেন। বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর গালে আস্ত দুটো থাপ্পড় মেরে গেছেন।

হ্যাঁ, এই থাপ্পড়টাই তাঁর প্রাপ্য।

Previous post গণতন্ত্রই পারে অরাজকতার মেঘ সরিয়ে সম্প্রীতি ফেরাতে
Next post ওরা কী চায়, নিজেরাই জানে না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *