বেঙ্গল টাইমস প্রতিবেদনঃ কিছুটা স্বস্তি পেলেন ফেসবুক বা সোশাল সাইট ব্যবহারকারিরা। রাজনৈতিক পোস্ট বা সরকার-বিরোধীতার জন্য আর গ্রেপ্তার হতে হবে না। তাদের মতপ্রকাশের অধিকারকেই মর্যাদা দিল সুপ্রিম কোর্ট।
একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি ছিল মঙ্গলবার। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ (এ) ধারা বাতিল করে দিল সর্বোচ্চ আদালত। শুধু বাতিল করাই নয়, এই আইনকে সংবিধানবিরোধী বলেই আখ্যা দিল সুপ্রিম কোর্ট। কোর্ট জানিয়ে দিল, সংবিধানে বাক ও অভিব্যক্তি প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। এই আইন সেই মৌলিক অধিকারের বিরোধী।
তবে অশ্লীল পোস্ট, দেশদ্রোহিতামূলক আচরণ বা দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক, এমন কিছু লেখা যাবে না। সেই নিয়ন্ত্রণ এখনও থাকছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক পোস্টের জন্য যেভাবে গ্রেপ্তার করা হত, তা আর করা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিল, এর আগে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, এই আইনের অপব্যবহার করা হবে না। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে অপব্যবহার হয়েছে। পুলিশ অকারণে যাকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাধারণ মতামত ও বিরোধীতার ক্ষেত্রেও পুলিশ বাড়াবাড়ি করেছে।
বেশ কয়েকটি রাজ্য এই নিয়ে নানা রকম মামলা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে অম্বিকেশ মহাপাত্রকে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে। কোন রাজ্যে কীভাবে অপব্যবহার হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়। সব মামলাগুলিকে একত্রিত করে রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া হয়, কিছু ক্ষেত্রে অপব্যবহার হয়েছে। আগামীদিনে আর হবে না। এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বিচারপতি। তিনি বলেন, আগেও এরকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া, একটি মন্তব্য কারও কাছে আপত্তিকর, অন্য কারও কাছে তা আপত্তিকর না মনে হতেই পারে। সাধারণ রাজনৈতিক বিরোধীতা করতে ভয় পেতে হবে কেন ?
তবে অশ্লীল পোস্ট বা দেশদ্রোহী কোনও মন্তব্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই যায়। তাছাড়া, আপত্তিকর ওয়েবসাইট ব্লক করার অধিকারও থাকছে পুলিশের হাতে।

