ভোট চলাকালীন বিজেপি সমর্থকরা খুব গর্বের সঙ্গে একটা কথা বলছিলেন, ‘মেজোরিটি যদি নাও আসে, তাহলেও কোনও চিন্তা নেই। যদি একশো কুড়িটাও আসে, তাহলেও সরকার আমাদের। বাকি এমএলএ গুলোকে অমিত শাহ কিনে নেবে।’
বোঝা গেল, অমিত শাহ সম্পর্কে তাঁদের প্রচণ্ড আস্থা। যে অমিত শাহ বিভিন্ন রাজ্যে অন্য দলের সরকার ভাঙিয়ে নিজেদের সরকার গড়েছেন, তাঁর সম্পর্কে এমন ‘আস্থা’ থাকাটাই স্বাভাবিক। তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন, এখানেও কুড়ি–পঁচিশজন কম পড়লে, অমিত শাহ ঠিক ‘কিনে’ নেবেন।
তাঁদের মজা করে বলতাম, কেনার দরকার পড়বে না। শুধু দরজাটা খোলা রাখলেই হবে। তৃণমূলের অনেকেই লাইন দিয়ে সুটসুট করে এসে পড়বেন। এমনকী দরজা বন্ধ থাকলে হয়তো ধাক্কা দিয়ে ঢুকে পড়বেন।
আসলে, বিজেপি যে এত বেশি আসন পেয়ে যাবে, বিজেপি সমর্থকরাও ভাবতে পারেননি। সেই কারণেই ‘কিনে’ নেওয়ার রাস্তাটা খোলা রেখেছিলেন। যাক, ‘কেনাকাটা’ করতে হল না। কিন্তু তারপরেও তৃণমূলের ভিতর কত লোকের ‘দম বন্ধ’ হয়ে আসছে। এতদিন তাঁরা ভয়ের চোটে বলতে পারেননি। এখন সুযোগ বুঝে তাঁদের ‘বিবেক’ জাগ্রত হয়ে গেছে। এখন তাঁরা বুঝছেন, তৃণমূলে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। এখন তাঁরা বুঝছেন, ভাইপো খুব উদ্ধত।
অতএব, তাঁরা বিজেপিতে সামিল হতে চান। কাউকে কিনতে হচ্ছে না। কাউকে আমন্ত্রণ জানাতে হচ্ছে না। অনাহুত আগন্তুকের মতো তাঁরা মনে মনে বিজেপি হয়েই গেছেন। পতাকা তুলে দেওয়া হবে শুনলেই ছুটে চলে এসে পতাকা ধরে নেবেন। অনেকটা সেই ‘তু মান ইয়া না মান, ম্যায় তেরা মেহমান’ — এর মতো অবস্থা। শপথ নেওয়ার আগেই এই অবস্থা। বিজেপি একবার ডাক দিলেই একের পর এক পুরসভা যেন হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে। পতাকা বদলে তৃণমূলের চেয়ারম্যান বিজেপির চেয়ারম্যান হয়ে যাবেন। আর চেয়ারম্যান যদি এখনই পতাকা বদলে রাজি না হন! কুছ পরোয়া নেই। তখন ভাইস চেয়ারম্যান দলবল নিয়ে বেরিয়ে যাবেন। অনাস্থা এনে তিনিই চেয়ারম্যান হয়ে বসবেন।
এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই তৃণমূল যে এমন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে, এতখানি কেউই হয়তো ভাবেননি। নেত্রীর জন্য যাঁরা জীবন দিতে রাজি ছিলেন, নেত্রীর আদর্শে যাঁরা এত বেশি ‘অনুপ্রাণিত’, নেত্রী একটু বিপাকে পড়তেই তাঁকে ছেড়ে যাওয়ার কী হুড়োহুড়ি। মমতার প্রতি এঁদের আনুগত্য বা দলের প্রতি এঁদের আনুগত্য কতখানি, তা বেশ বোঝা গেল। এঁরা আসলে কেউই মমতা পন্থী ছিলেন না, ছিলেন ক্ষমতাপন্থী। ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। তাই, এঁদের ডিগবাজি শুধু সময়ের অপেক্ষা।
