মৌতান ঘোষাল
আমাদের দেশের সভ্যতার গায়ে যে কটি কলঙ্কের দাগ মাঝে মাঝে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, খাপ পঞ্চায়েত তার মধ্যে বেশ উজ্জ্বল। দগদগে ঘা’এর মতো। মাঝে মধ্যেই তাদের উদ্ভট বিচার, শাস্তি দেওয়ার নিদান উঠে আসে খবরের কাগজের পাতায়। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গুজরাট বা আমাদের রাজ্যের মালদা, বীরভূম সর্বত্রই এদের একের পর এক অন্যায় বারবার মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে প্রশাসনের। আর এবার তো ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল।
“মিস থানাকপুর হাজির হো” ছবির পরিচালক বিনোদ কাপ্রিকে রীতিমতো খুনের হুমকি দিল উত্তরপ্রদেশের এক খাপ পঞ্চায়েত। রাজনৈতিক প্রহসন এই ছবির বিষয় খাপ পঞ্চায়েতের হাস্যকর এক সিদ্ধান্ত এবং তার পিছনের নোংরা রাজনীতি। ছবিতে এমন একজন মানুষের কথা বলা হয়েছে যাকে গ্রামের ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু লোক একটি ষাঁড়কে ধর্ষণ করার অভিযোগে শাস্তি দিতে চাইছে। সেই ষাঁড়েরই নাম মিস থানাকপুর। আর এতেই স্বার্থে ঘা লেগেছে খাপ পঞ্চায়েতের। উত্তরপ্রদেশের এই খাপ পঞ্চায়েত তাই ছবির পরিচালক বিনোদ কাপ্রিকে খুন করলে ৫১ টি ষাঁড় পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
স্বভাবতই কিছুটা অবাক কাপ্রি। তিনি স্থানীয় পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন। বিনোদ কাপ্রির বক্তব্য, তিনি নিজেকে নিয়ে চিন্তিত নন। কিন্তু তিনি মুম্বইতে রয়েছেন আর তাঁর পরিবার রয়েছে উত্তর প্রদেশের নয়ডায়। পরিবার নিয়েই চিন্তা কাপ্রির। তাই পুলিশের সাহায্য চেয়েছেন তিনি। যদিও সংশ্লিষ্ট খাপ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে কোনও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করছেন না পরিচালক। খুব শান্তভাবেই তাঁর আবেদন, ছবিটি না দেখে এভাবে অন্যায় বিচার করাটা বোধয় ঠিক হচ্ছে না ‘দেশের বয়জ্যেষ্ঠ” এবং “অভিজ্ঞ” লোকেদের দিয়ে চালিত খাপ পঞ্চায়েতের।
অনু কাপুর, রবি কিষাণ, ওম পুরি, রাহুল বাগগা, হৃষিতা ভাটের মত অভিনেতাদের নিয়ে তৈরি এই ছবির ট্রেলার দেখে প্রশংসা করেছেন অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে রাজকুমার হিরানি’র মত তারকারা। পরিচালক যতই অমায়িকভাবে ছবি দেখে বিচার করার কথা বলুন প্রশ্ন হল এই খাপ পঞ্চায়েতদের সিনেমা নিয়ে বিচার করার অধিকার কে দিয়েছে? আর কতদিন এই নিজেদের মূর্খ ঔদ্ধত্য দেখিয়ে পার পেয়ে যাবে খাপ পঞ্চায়েত নামের এই “গাঁয় মানে না আপনি মোড়ল” রা?


