একসঙ্গে লড়াই ছাড়া উপায় নেই

আব্দুল মান্নান

mannan

আজ গৌতম দেব বললেন। স্পষ্ট করে না বললেও ইঙ্গিতটা পরিষ্কার। তৃণমূলকে হারাতে গেলে ধর্মনিরপেক্ষ সব শক্তিকে এক হয়ে লড়তে হবে। গৌতমবাবুর এই কথাকে স্বাগত জানাই।

ঠিক এই কথাটাই এক বছর ধরে আমি বলে আসছি। খোদ দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে বলেছি। দলের সহ সভাপতি রাহুল গান্ধীকে বলেছি। বাংলার অনেকেই তার সাক্ষী আছেন। বিভিন্ন সভা বা টিভি চ্যানেলের আলোচনাতেও বলেছি। কংগ্রেসের অনেক নেতা কর্মীর শুরুতে এটা মানতে দ্বিধা ছিল। এখন অনেকেই দেখি একমত। যত দিন যাচ্ছে, ততই এই দাবি জোরালো হচ্ছে।

সিপিএমের সঙ্গে নানা ব্যাপারে আমাদের লড়াই ছিল, আছে। আমরা সবাই মিলেই এক হয়ে লড়াই করে সিপিএম, তথা বামফ্রন্টকে সরিয়েছিলাম। কিন্তু যে পরিবর্তন এল, তাতে রাজ্য আরও তলানিতে যাচ্ছে। প্রতিদিন রাজ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এখন সবাই আক্ষেপ করছেন, কেন এমন একটা সরকারকে আনলাম। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, সিপিএমের সরকার অন্তত এতখানি অসভ্য ছিল না। অন্তত তৃণমূলের থেকে বামেরা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য। এই কথাটাই দলের হাইকমান্ডকে বুঝিয়েছি।

হাইকমান্ড যদি তৃণমূলের সঙ্গে আবার জোট করতে যায়, তাহলে দলের যেটুকু অস্তিত্ব আছে, তাও বিপন্ন হয়ে পড়বে। নিচুতলার কর্মীরা এই জোট মেনে নেবে না। আমি জানি, বামেদের সঙ্গে জোটও খুব সহজ হবে না। নানা দিক থেকে বাধা আসবে। বামেদের দিক থেকেও বাধা আসবে। অনেক শরিক আছে, যাদের নিজেদের পায়ের তলায় মাটি নেই। কিন্তু এক হয়ে লড়ার তাগিদটা তারা হয়ত অনুভব করছেন না। তাঁরাও বাধা দেবেন। তবু আলোচনাটা থাকুক। নিচুতলার মনোভাবটা জানা দরকার।

সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট, কথাটা শুনতে হয়ত খারাপ লাগছে। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। এটাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির দাবি।

 

(সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুলিখন)

Previous post ​তৃতীয় সুর ষষ্ঠ সুর, নিশিকুটুম ডাকে বহুদূর
Next post প্রকাশ, আপনিই বলুন, আপনাকে কি এসব মানায় !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *