উত্তম জানা
প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের কথা। সেবার আমাদের প্রিয় শহরে খেলতে এসেছিলেন ফুটবল সম্রাট পেলে। গোটা কলকাতা যেন উত্তাল হয়ে উঠেছিল পেলের আগমন ঘিরে। ৪৯ বছর পরেও অনেকের স্মৃতিতে সেই ঘটনা এখনও বেশ উজ্জ্বল। পরেও পেলে এসেছেন। কিন্তু সেবার সেই উন্মদনা দেখা যায়নি।
পেলে যখন এখানে এসেছিলেন, তখন তিনি নিউ ইয়র্ক কসমস ক্লাবের ফুটবলার। ফুটবল জীবনের প্রান্তসীমায়। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আগেই বিদায় নিয়েছেন। তবু পেলে বলে কথা! তাঁর বিরুদ্ধে খেলা মানেই অন্য এক উন্মাদনা। মোহনবাগান সেবার দুরন্ত লড়াই করেছিল। কসমসের বিরুদ্ধে ২–২ ড্র করেছিল।
আবার এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা। এবার আসছে পুরো ব্রাজিল দল। বিপক্ষে খেলবে ভারতীয় একাদশ। নিছক প্রদর্শনী ম্যাচ নয়, এটি হবে ফিফা ফ্রেন্ডলি। ২০১১–তে মেসির আর্জেন্টিনাও এসেছিল। অধিনায়ক হিসেবে সেটিই ছিল মেসির অভিষেক ম্যাচ। বিপক্ষে ছিল ভেনেজুয়েলা। কিন্তু এবার বিপক্ষে থাকবেন ভারতীয় ফুটবলাররা। আমাদের কাছে এটা বিরাট একটা সুযোগ। খেলার ফল কী হবে, সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু অন্তত ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলা হলে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে তৈরি হবে বাড়তি এক উন্মাদনা। নেইমার অবসর নিয়ে ফেলেছেন। তিনি হয়তো খেলবেন না। ভিনিসিয়াস জুনিয়র কি আসবেন? এখনই বলা মুশকিল।
তবে একটাই অনুরোধ, কয়েক মাস আগে মেসিকে আনতে গিয়ে যে বিপত্তি হয়েছিল, এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়। সেবার মেসিকে ঘিরে অতিরিক্ত আদিখ্যেতায় মাঝপথেই অনুষ্ঠান পণ্ড হয়েছিল। কলকাতার মুখ পুড়েছিল। এবার যেন উদ্যোক্তারা বাড়তি সতর্ক থাকেন। আর টিকিটের মূল্য যেন আকাশছোঁয়া না হয়। হাজারের মধ্যেই যেন বাঙালি ব্রাজিলের খেলা দেখার সুযোগ পায়, সেটুকুও দেখা উচিত। আবেগের এই মুহূর্ত যেন ব্যবসায়িক ইভেন্টে না বদলে যায়।
