সেদিনও বলেছিলেন, গিল পারচেজড

বেঙ্গল টাইমস প্রতিবেদন

তিনি ঘোষণা করলেন, কোনও অবস্থাতেই তিনি রাজ্যপালের কাচে যাবেন না। তিনি পদত্যাগও করবেন না। কারণ, তিনি হারেননি। তাঁকে জোর করে হারানো হয়েছে। মোদ্দা কথা, ভোটের এই ফল তিনি মানেন না।

তাঁর জীবনের ট্র‌্যাকরেকর্ডের দিকে তাকালে বোঝা যাবে, এটা তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। ঠিক এমন ঘটনা ২০০১ সালেও ঘটেছিল। বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে রাতারাতি জোট করেছিলেন কংগ্রেসের সঙ্গে। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, সরকার পাল্টে যাচ্ছে। তিনি মেদিনীপুরে বসে মন্ত্রিসভাও গঠন করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ভোটের ফল বেরোতে দেখা গেল, মাত্র ষাটটি আসন পেয়েছেন। কংগ্রেসের ঝুলিতে সম্ভবত ২৬টি। সেইদিনই তিনি ঐতিহাসিক একটি মন্তব্য করেছিলেন, ‘‌গিল পারচেডড’‌। অর্থাৎ, গিল বিক্রি হয়ে গিয়েছেন।

এই গিল কে?‌ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এম এস গিল। অর্থাৎ, ভোটে হারের পর সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন নির্বাচন কমিশনের দিকে। এখানেই শেষ নয়। কংগ্রেস তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাকতা করেছে। যেহেতু তিনি বিজেপির জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন, তাই বিজেপিও নাকি এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার। আর সিপিএম তো আছেই। অর্থাৎ, বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম এবং নির্বাচন কমিশন— একসঙ্গে এই চার শক্তি মিলে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হারিয়েছে।

সেদিন তাঁর পদত্যাগ করার প্রশ্ন ছিল না। কারণ তিনি বিরোধী নেত্রী ছিলেন। বিধানসভা ভোটেও দাঁড়াননি। কয়েক মাস আগেও ছিলেন বিজেপির মন্ত্রী। রাতারাতি পদত্যাগ। বিধানসভায় হারের পরই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ছেড়ে আবার এনডিএ শিবিরে প্রত্যাবর্তন। প্রথমে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী, অনেক পরে কয়লা মন্ত্রী।

কিন্তু দিনভর এত চ্যানেলের এত খবরের ভিড়েও গিল পারচেজড এর বিষয়টি উঠে এল না। কোনও ইউটিউব চ্যানেলেও এর কোনও উল্লেখ নেই। কোনও বিশেষজ্ঞের আলোচনাতেও নয়। কারণটা কী?‌ যাঁরা এখন চ্যানেলের সঞ্চালক বা যাঁরা ইউটিউব চ্যানেল খুলে বসেছেন, তাঁদের অধিকাংশই হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা বিশেষজ্ঞ। ২০০১ সালের ঘটনাক্রম সম্পর্কে তাঁরা পরিচিত নন। আসলে, তখন তাঁরা রাজনীতির খবরই সেভাবে রাখতেন না। ছোটবেলায় কাগজ পড়াটা সত্যিই খুব জরুরি। ইউটিউবারদের অধিকাংশই ছোটবেলায় কাগজ পড়তেন না। তাই একসময় বহুল প্রচারিত, প্রায় প্রবাদ হয়ে যাওয়া ‘‌গিল পারচেজড’‌ শব্দ বন্ধটার সঙ্গে তাঁদের পরিচয়টুকুও নেই।

Previous post রাগ নাকি ভরসা!‌ চাল আর কাঁকর সেই মিশেই গেল
Next post তু মান ইয়া না মান, ম্যায় তেরা মেহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *