বেঙ্গল টাইমস, পয়লা বৈশাখ সংখ্যা।।

আশা নয়, আশঙ্কাই বাড়ছে

একদিকে বসন্তের বিদায়। অন্যদিকে নতুন বছরের আগমন। এপ্রিল মাসের দুই অর্ধে দুই বার্তা। কিন্তু এপ্রিল মাস মানে যতটা সম্প্রীতির, ততটাই যেন তিক্ততার। যেমন, এই বছর, রাজ্য জুড়ে জোরকদমে বেজে চলেছে ভোটের দামামা। হুমকি, হিংসা, কুৎসা— কোনওকিছুর বিরাম নেই। শুধু কি এই বছর?‌ দু’‌বছর আগে এই সময় ছিল লোকসভা ভোটের আবহ। একদিকে মোদির হুঙ্কার, একদিকে দিদির হুঙ্কার— এই নিয়ে ওষ্ঠাগত ছিল বাংলা। তার আগের বছর, অর্থাৎ, ২০২৩ নাগাদ ছিল পঞ্চায়েত ভোটের দামামা। এই ভোটকে ঘিরে গ্রামাঞ্চলের পরিবেশ আরও দূষিত হয়ে যায়। বলাই বাহুল্য, এই ভোটে সন্ত্রাসও অনেকটাই লাগামছাড়া। রাজ্যের হাতেই সব দায়িত্ব। ফলে, কেউ বলার নেই। শাসকের মাতব্বরি কার্যত একতরফা হয়ে যায়।

তাই পয়লা বৈশাখ বলতে একসময় যে সম্প্রীতির আবহ ছিল, তা বহুকাল আগেই বঙ্গজীবন থেকে যেন উধাও হয়ে গেছে। এই দিনটার সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গ ছিল না। তাই এই দিনটা যতটা হিন্দুদের, ততটাই ছিল মুসলিমদের। এপার বাংলা, ওপার বাংলা দিব্যি মিশে যেত এক সুরে। যদিও ওপার বাংলায় দীর্ঘ অরাজকতার পর অনেকটাই শান্তি ফিরেছে। গত বছর যে পরিস্থিতি ছিল, তার থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত। প্রতিবেশী হিসেবে এটা অবশ্যই স্বস্তির। কিন্তু এপার বাংলায় ভোটের আবহে যে ধর্মীয় মেরুকরণের আবহ তৈরি হচ্ছে, তা বেশ দুশ্চিন্তার। এই বাংলায় রাজনৈতিক চাপানোতর আগেও ছিল। কিন্তু ধর্মকে ঘিরে এমন উস্কানিমূলক প্রচার ছিল না। দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা যে ভাষায় কথা বলছেন, সত্যিই তাঁদের রাষ্ট্রনায়ক ভাবতে কষ্ট হয়। এঁরা সংবিধানের নামে শপথ নিয়েছেন!‌ এঁরা দেশের সংবিধানকে, দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে রক্ষা করবেন!‌ সত্যিই এই দেশের বড় দুর্দিন।

রাজ্যের শাসকও হয়তো চাইছেন এমন আবহই থাকুক। ভয়ের আবহে অন্তত একটি সম্প্রদায়ের ভোট নিশ্চিত করা যাবে। রাজ্যের দুর্নীতি, অরাজকতা নিয়ে প্রশ্নগুলো আড়ালেই থেকে যাবে। হিন্দু আর মুসলিমকে লড়িয়ে দিতে পারলে দুই তরফেই সুবিধা। তাহলে নিজের নিজের ব্যর্থতাগুলো কী সহজেই চাপা পড়ে যাবে!‌ বামেরা সম্প্রীতির কথা, রুটিরুজির কথা, শিক্ষার কথা বললেও এই ধর্মীয় উন্মাদনার আবহে সেই কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যাচ্ছে। উদ্বেগের হলেও এটাই বাস্তব।

তাই এই পয়লা বৈশাখ কোনও স্বস্তির বার্তা নিয়ে নয়, বরং হিংসা আর বিদ্বেষের বার্তাই বয়ে আনছে। সামনের দিনগুলো সুন্দর হবে?‌ এমন আশা করা সত্যিই বড় কঠিন হয়ে পড়ছে।


বেঙ্গল টাইমসের নতুন ই–‌ম্যাগাজিন। দেওয়া হল ওয়েব লিঙ্ক। এখানে ক্লিক করলেই পত্রিকাটি অনায়াসে পড়া যাবে। দ্রুত পড়ে ফেলুন।

https://bengaltimes.in/wp-content/uploads/2026/04/poyla-boishakh-issue.pdf

Previous post শুধু একটি বছর
Next post আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *