আবার প্রমাণিত হবে, সিবিআই আসলে ছড়িয়ে লাট করেছে। তাঁদের বাঁচানোর লোকেরা যতদিন থাকবেন, সিবিআই সত্যিই কিছু করে উঠতে পারবে না। চার্জশিটে দু চার লাইনের ফুটনোট দেওয়া হবে। বড়জোর টিভি চ্যানেলকে আলোচনার একটু খোরাক দেওয়া হবে। এর বেশি সিবিআইয়ের কিছুই করার নেই। অন্তত গত দশ বছরে তাদের যা ধারাবাহিকতা, তাতে কোনও প্রত্যাশা না রাখাই ভাল।
অজয় নন্দী বড় গায়কের আগে গাইতে ওঠার একটা বিড়ম্বনা থাকে। একেকটা গান হয়, আর জোর হাততালি পড়ে। গায়ক ভেবে নিতেই পারেন, সবাই হয়তো তাঁর গানের তারিফ করছেন। আসলে, দর্শক বলতে...
উঠল বাই, শিমূলতলা যাই। হঠাৎই চলে যাওয়া। তাও প্রায় দুই দশক আগে। সারাদিন টেনে ঘুম, রাতে হ্যাজাক নিয়ে বেরিয়ে পড়া। এমনই নৈশ অভিযানের স্মৃতি উঠে এল সৌম্যদীপ সরকারের লেখায়।
মনে মনে ক্ষুব্ধ হতেই পারেন। কিন্তু কিছুই করার নেই। অপমানিত হয়েও দলেই থাকতে হবে। হাতে পুলিশ না থাকলে, পাশে পিসি না থাকলে তাঁর কোনও মূল্যই নেই, গত কয়েক মাসে এটুকু অন্তত প্রমাণিত। এতদিন যাঁরা গ্যাস দিতেন, তাঁরা কী বেমালুম কেটে পড়েছেন। স্বপ্নের উড়ান থেকে আপাতত বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে। তিনি নিছক একজন সাংসদ, এই তকমা নিয়েই আপাতত ঘাপটি মেরে থাকতে হবে। পরে ‘সুসময়’ আসতেই পারে। আবার সর্বেসর্বা হয়ে উঠতেই পারেন। কিন্তু আপাতত অচ্ছুৎ হয়েই থাকতে হবে।
স্বরূপ গোস্বামী একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই বাঙালির আদিখ্যেতার শেষ নেই। এমনই আদিখ্যেতা দেখা যায় পয়লা বৈশাখ, পঁচিশে বৈশাখ। যেন এই দুটো বা তিনটে দিন বাঙালি হলেই চলবে। বাকি দিনগুলোয় বাঙালি হওয়ার...
আবার একটা একুশে ফেব্রুয়ারি। বাঙালির গর্বের দিন। একদিকে অশান্ত ওপার বাংলা। অন্যদিকে, চিরঘুমের দেশে আমি বাংলায় গান গাই–এর স্রষ্টা প্রতুল মুখোপাধ্যায়। রাজনীতি, সাহিত্য, বিনোদন, খেলা, ভ্রমণ— সবমিলিয়ে বেঙ্গল টাইমসের এবারের সংখ্যা।
আচ্ছা, রাজ্য পুলিশ যখন প্রমাণ লোপাট করে, তখন রাজ্য সরকারের সমালোচনা করি কেন? কারণ, রাজ্য পুলিশ সরকারের নির্দেশেই চলে। ঠিক তেমনই, সিবিআই–কে যা নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা ঠিক সেটাই করে। কোন তদন্ত কতদূর এগোনো যাবে, কোন স্তর পর্যন্ত গিয়ে থেমে যেতে হবে, এটা তাঁরা বিলক্ষণ বোঝেন।
সিবিআই–কে যেন কে চালান?
রাজনীতির ব্যাপার রাজনীতির লোকেরা বুঝুন। তার সঙ্গে খেলাকে না জুড়লেই নয়! নিজেরা সমস্যা মেটাতে পারছেন না। সেই ব্যর্থতার বোঝা খেলাধূলার ওপর কেন চাপাচ্ছেন? যে সম্প্রীতি আপনারা আনতে পারেননি, তা ক্রিকেটাররাই পারেন। ওঁদের খেলতে দিন। এই দমবন্ধ আবহে ওঁরা অন্তত তাজা অক্সিজেন আনতে পারবেন।
কিছু গান থাকে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে অন্য পারে পৌঁছে যায়। এপার বাংলা না ওপার বাংলা, সব গুলিয়ে যায়। তাই আমি বাংলায় গান গাই এপারে যতটা জনপ্রিয়, ওপারেও ততটাই জনপ্রিয়। ওপারের মঞ্চে কী অবলীলায় গেয়ে উঠতে পারেন, ‘দুইজনাই বাঙালি ছিলাম/দেখ দেখি কাণ্ডখান/তুমি এখন বাংলাদেশি/আমারে কও ইন্ডিয়ান।’
এই ভাষা দেশকে জনগণমন ও বন্দেমাতরম দিয়েছে। এই ভাষা দেশকে সাহিত্যে একমাত্র নোবেল দিয়েছে। এই ভাষা দেশকে প্রথম অস্কার এনে দিয়েছে। তারপরেও নিজের ভাষাকে খাটো করার এমন চেষ্টা বোধ হয় বাঙালিই করতে পারে। তাই একটা নববর্ষ বা একটা একুশে ফেব্রুয়ারি শখের বাঙালি হয়ে উঠলে হবে না। বছরের বাকি দিনগুলোতেও বাঙালি হয়েই থাকতে হবে। বাঙালি হিসেবেই গর্ববোধ করতে হবে। এটাই হোক এবারের একুশের অঙ্গীকার।