ওলা চালকদের আগে রাস্তা চেনানো হোক

শ্রীপর্ণা গাঙ্গুলি

ট্যাক্সির কাছে ‘‌না’‌ শুনতে শুনতে মানুষ অভ্যস্থই হয়ে উঠেছিল। ঠিক তখনই একঝলক ঠান্ডা বাতাসের মতো এসেছিল ওলা, উবের। যখন তখন গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। ভাড়াও খুব বেশি নয়। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ওলার মধ্যেও যেন ট্যাক্সির ছোঁয়া লেগে যাচ্ছে।
১)‌ ওলা মাইক্রো এখন খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। বেশিরভাগ সময় দেখাচ্ছে, মাইক্রো অ্যাভেলেবল নেই। আপনাকে প্রাইম ডাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ola cab2
২)‌ গন্তব্য আগাম লিখতে হচ্ছে, অনেকেই এতে সড়গড় নন। সমস্যায় পড়ছেন।
৩)‌ আগে শুনতাম, ড্রাইভারদের নানা রকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাস্তা চেনে কিনা, পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু এখন দেখছি, অধিকাংশ গাড়ি চালাচ্ছেন অবাঙালিরা। শুরু থেকেই আপনাকে হিন্দিতে কথা বলতে হবে। এবং সবচেয়ে যেটা ভয়ঙ্কর, অধিকাংশ ড্রাইভার কলকাতার রাস্তাঘাট সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না। জটিল জায়গা তো দূরের কথা, সাধারণ জায়গাগুলোই চেনেন না। মেট্রো সিনেমা, আকাশবাণী ভবন, হাইকোর্ট, সেক্টর ফাইভ, মেট্রো সিনেমা— এগুলো পর্যন্ত অনেকে জানেন না। কোন রাস্তা ওয়ান ওয়ে, সে সম্পর্কে অনেকেরই কোনও ধারণা নেই। ফলে, অকারণ ঘুরতে হচ্ছে যাত্রীদের। কারও কারও আচরণও বেশ আপত্তিজনক। তাহলে, কাদের হাতে স্টিয়ারিং তুলে দিচ্ছে ওলা?‌
কোনও চালক কলকাতায় যখন গাড়ি চালাচ্ছেন, তখন তাঁর কলকাতার রাস্তাঘাট চেনা উচিত। সেইসঙ্গে বাংলা ভাষাটাও জানা উচিত। মানছি, সময় লাগবে। কিন্তু এঁরা তো শেখার বা চেনার কোনও তাগিদই অনুভব করছেন না। এক বছরের ওপর গাড়ি চালাচ্ছেন, তাও কলেজ স্ট্রিট চেনেন না। কেউ জন্ম থেকেই কলকাতায় আছেন, তবু বাংলা জানেন না। ওলা, উবেরের কাছে অনুরোধ, ওলার হয়ে গাড়ি চালানোর অনুমতি দিলে দেখা হোক, তাঁরা বাংলা জানেন কিনা। রাস্তা চেনেন কিনা।

Previous post নেত্রীর প্রতি এত অনাস্থা অনুব্রত ছাড়া আর কে দেখিয়েছেন!‌
Next post জন্মদিবসে জীবনসঙ্গীতে মান্না দে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *