একবার কেভেন্টার্সে ঘুরেই আসুন

নীলাঞ্জন হাজরা 
নিঃশব্দেই পেরিয়ে গেছে শতবর্ষ। কেউ জানতেও পারেনি। জানবে কী করে?‌ তখন যে গুরুংবাবুদের ফতোয়ায় পাহাড়ে ওঠাই প্রায় নিষেধ ছিল। পর্যটকের ভীড় থাকলে হয়ত সেলিব্রেশন হত। কিন্তু ফাঁকা পাহাড়ে কে আর সেলিব্রেশন করতে যাবে!‌

darjeeling caventers
কথা হচ্ছে কেভেন্টার্স রেস্তোরাঁ নিয়ে। হ্যাঁ, দার্জিলিংয়ের সেই ক্যাভেন্টার্স, যার পথ চলা শুরু ১৯০৯ সালে। কেভেন্টার্সের কথা প্রথম বলেছিল সৌম্য। যদি আবার দার্জিলিং যাও, অবশ্যই ক্যাভেন্টার্সে যেও। না গেলে দার্জিলিং যাওয়াটাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
তার আগে বার তিনেক দার্জিলিংয়ে গিয়েছি। কিন্তু সত্যি বলছি, ক্যাভেন্টার্সের কথা তার আগে কেউ বলেনি। তাই যাওয়াও হয়নি। সেখানে কার পা পড়েনি? ‌সত্যজিৎ রায় থেকে ঋত্বিক ঘটক। অমিতাভ বচ্চন থেকে রাজেশ খান্না। এডমন্ড হিলারি থেকে তেনজিং নোরগে। এতলোক যখন গিয়েছেন, তখন নিশ্চয় দামও আকাশছোঁয়া হবে। সে এক পাঁচতারা এলাহি ব্যবস্থা হবে। ভয়মিশ্রিত একটা রোমাঞ্চ নিয়েই গিয়েছিলাম।
কিন্তু গিয়ে ভুল ভাঙল। খোলা ছাদ, একেবারেই সাদামাটা একটা রেস্তোরাঁ। বলে না দিলে আলাদা করে বোঝার উপায়ও নেই। ম্যাল থেকে একটু নেমে গেলেই চোখে পড়বে রেস্তোরাঁটা। সেখানকার প্রিয় খাদ্য নাকি চিকেন সসেজ। যারা আসে, এটাই আগে খায়।

caventers2

আরও নানা রকম আইটেম সাজানো, যেগুলো সচরাচর অন্যান্য জায়গায় পাবেন না। এই ছাদ থেকেই কত ছবির শুটিং হয়েছে। সত্যজিৎ রায় নাকি একটা ব্ল্যাক কফি নিয়ে ওই ছাদে বসেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতেন। পাগলাটে চেহারার ঋত্বিকও এলে উঠতে চাইতেন না। তাকিয়ে থাকতেন ওই কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে। অমিতাভ, ধর্মেন্দ্র, রাজেশ খান্নারা যখন এসেছেন, নিরিবিলিতে দেখার তেমন সুযোগ পাননি। ছবি তোলার, সই নেওয়ার ভিড় যেন আড়াল করে দিয়েছে শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘাকে।
এমন অনেক অজানা গল্প নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেভেন্টার্স। বেশ কয়েকবার মালিকানার হাত বদল হয়েছে। এখন যাঁরা দায়িত্বে, তাঁদের সেই গর্ববোধটা আছে বলে মনেও হয় না। ঐতিহ্যকে তুলে ধরার সেই উদ্যোগও নেই। পুরানো সেসব ছবিও সংরক্ষণে নেই। তবু কেভেন্টার্স কেভেন্টার্সই। লোকমুখে মুখে ছড়িয়ে যায় তার মাহাত্ম্য। ভিনদেশিরাও ছুটে আসেন, ভিড় করেন ওই ছাদে। তাঁরা কোন ঐতিহ্যের টানে আসেন, কে জানে!‌

(‌এমন কত ঐতিহ্যশালী রেস্তোরাঁ ও প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে আছে। চাইলে আপনিও সেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে লিখতে পারেন। আপনার অনুভূতি, নস্টালজিয়াও উঠে আসতে পারে। লিখুন। পাঠিয়ে দিন। bengaltimes.in@gmail.com)

Previous post এ কলকাতার মাঝেই তো আরেকটা কলকাতা
Next post গালুডি ও আমাদের সেই দোবরু পান্না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *