পিএ কমিটি অন্তত গবেটদের জায়গা নয়

হেমন্ত রায়

পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি নিয়ে অদ্ভুত এক ছেলেখেলা দেখা যাচ্ছে। আসলে, এই কমিটির কী গুরুত্ব, সেটাই অধিকাংশ বিধায়ক বোঝেন না। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বোঝে না। তাই এই কমিটিকে ঘিরে নাবালকের মতো আচরণ চলতেই থাকে।

দলগুলি জানে, পিএ কমিটির চেয়ারম্যান আলাদা গাড়ি পান। ব্যাস, এদের বিদ্যে বুদ্ধির দৌড় ওইটুকুই। কিন্তু ওই কমিটির চেয়ারম্যান হতে গেলে যে একটু লেখাপড়া লাগে, এই সহজ বিষয়টা তাঁরা বুঝতেও চান না।

এবারও একই ঘটনা। শাসক দল চাইছে, সদ্য বিজেপি ছেড়ে আসা মুকুল রায়কে ওই চেয়ারে বসাতে। আর বিজেপি কিনা হাওয়ায় ভাসাচ্ছে মনোজ টিক্কার নাম। এঁদের কারও পিএ কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার কোনও যোগ্যতাই নেই। বিজেপির আগেরবার তিনজন মাত্র বিধায়ক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মাদারিহাটের মনোজ টিক্কা একজন। দিলীপ ঘোষ লোকসভার সদস্য হওয়ার পর মনোজ টিক্কাই দলনেতা। কিন্তু তাই বলে তিনি পিএ কমিটির চেয়ারম্যান হবেন?‌ আর কাউকে পাওয়া গেল না?‌ অন্তত অশোক লাহিড়ীর নাম তো ভাবা যেত।

bidhan sabha
শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা। তিনিও সদস্য হিসেবে নমিনেশন জমা দিলেন। বিরোধী দলনেতা পদের মর্যাদা তিনিও বোঝেন বলে মনে হয় না। বিরোধী দলনেতা হলে তিনি সচরাচর পিএ কমিটির চেয়ারম্যান হন না। আবার সাধারণ সদস্য হিসেবেও তিনি কমিটিতে থাকেন না। একমাত্র স্পিকার যদি কমিটির চেয়ারম্যান হন, তবেই বিরোধী দলনেতা সাধারণ সদস্য হতে পারেন। এটাই পরিষদীয় রেওয়াজ। কিন্তু না জেনেই শুভেন্দু নমিনেশন ফাইল করে দিলেন।

পিএ কমিটির কী কার্যাবলি, সেই সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই। এই কমিটি সরকারের যাবতীয় আয় ব্যায়ের হিসেব তলব করতে পারে। ক্যাগ রিপোর্ট চেয়ে পাঠাতে পারে। যে কোনও দপ্তরের সচিবকে ডেকে পাঠিয়ে জবাবদিহি চাইতে পারে। তার জন্য একটু লেখাপড়া লাগে। সিএজি রিপোর্ট খুঁটিয়ে পড়ে, সেখান থেকে ভুল বের করার জন্য একটু বিদ্যে লাগে।

প্রথমত, এইসব রিপোর্ট আমলারা তৈরি করেন। কাগজ কলমের রিপোর্টে ত্রুটি ঢেকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা থাকে। তথ্যের জাগলারি থাকে। সেটাকে কাউন্টার করতে গেলে বিটুইন দ্য লাইনস পড়তে জানতে হয়। যাঁদের নাম চেয়ারম্যান হিসেবে ভাবা হচ্ছে, তাঁরা জটিল ইংরাজির ওই রিপোর্ট পড়ে তার মানেই বুঝতে পারবেন না। তার ওপর তাঁরা ত্রুটি খুঁজে বের করবেন?‌

অধিকাংশ সদস্যের এক পাতা ইংরাজি পড়ে তার মানে বোঝার ক্ষমতা নেই। তাঁরা কিনা আমলাদের আয় ব্যয়ের হিসেব পর্যালোচনা করবেন?‌ তাই এই কমিটিতে যাঁরাই থাকবেন, তাঁদের পেটে অন্তত একটু বিদ্যে থাকা জরুরি। যাঁরা কলেজের গন্ডি মাড়াননি, এই কমিটি অন্তত তাঁদের জন্য নয়।

আর স্পিকার যদি বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এমন লোকেদেরই সদস্য ও চেয়ারম্যান করেন, তাহলে বুঝতে হবে, এই কমিটি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান গম্যিও নিতান্তই সীমিত।

Previous post সিনেমায় কিশোরকে দিয়ে প্রথম রবীন্দ্র সঙ্গীত কিন্তু গাইয়েছিলেন হেমন্তই
Next post কোথায় হারিয়ে গেলেন মিঠু মুখার্জি?‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *