তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বড় চমক হতেই পারেন শত্রুঘ্ন সিনহা। বিহারী বাবু হয়ত লড়তে পারেন আসানসোল থেকে। কেন শত্রুঘ্ন বাংলা থেকে লড়তে চান? তাঁকে নিয়ে তৃণমূলেরই বা কী লাভ? বিশ্লেষণ করলেন ধীমান সাহা।
শত্রুঘ্ন সিনহা কি আর বিজেপি–র হয়ে দাঁড়াবেন? সম্ভাবনা নিতান্তই ক্ষীণ। পাটনা সাহিবের এই সাংসদ নিজেও জানেন, বিজেপিই তাঁকে আর টিকিট দেবে না। সচেতনভাবেই গত কয়েক বছরে একটু একটু করে দূরত্ব তৈরি করেছেন।
এবার তাঁকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে দেখলে অবাক হবেন না। না, বিহার থেকে নয়। তিনি হয়ত দাঁড়াতে পারেন আসানসোল থেকে। সেক্ষেত্রে বাবুল সুপ্রিয় বনাম শত্রুঘ্ন সিনহা টক্কর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা।
গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সুযোগ পেলেই মমতা ব্যানার্জির প্রশস্তি করছেন। মমতা দিল্লি গেলেই শত্রুঘ্ন বৈঠক করতে চলে আসছেন। মোদি বিরোধীতা করে নানা বিবৃতি দিচ্ছেন। মমতাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই, এই জাতীয় বিবৃতিও মাঝে মাঝেই বিহারী বাবুর মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে। মোদ্দা কথা, ক্রমশ তৃণমূল শিবিরের কাছাকাছি আসতে চাইছেন।

কিন্তু শত্রুঘ্ন কেন তৃণমূলে আসতে চাইছেন?
১) বিজেপির হয়ে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
২) টিকিট পেলেও জেতার নিশ্চয়তা নেই।
৩) নীতীশের দলে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ, নীতীশ আপাতত বিজেপির জোটসঙ্গী।
৪) পড়ে রইল লালুর দল। কিন্তু আর জে ডি–তে কতটা সাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয়। তাছাড়া, আরজেডি–র টিকিট পেলেও জেতা মুশকিল।
৫) তার থেকে তৃণমূল অনেক বেশি নিরাপদ। মমতার তারকাপ্রীতি আছে। শত্রুঘ্নর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কও বেশ ভাল। তাছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের কোনও আসনে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ালে জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই।
কিন্তু শত্রুঘ্নকে নিয়ে তৃণমূলের কী লাভ?
১) সর্বভারতীয় একটা পরিচিতি আছে। তিনি কিছু বললে সর্বভারতীয় মিডিয়ায় তার প্রভাব অনেক বেশি।
২) অনেকদিন ধরেই মোদি–বিরোধীতায় সক্রিয়। বিজেপি–র সাংসদ থেকেও প্রকাশ্যেই মমতাকে প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন।
৩) আসানসোলে প্রচুর বিহারী ভোটার। তাঁকে প্রার্থী করলে সেই বিহারী ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের বাক্সে আসতে পারে।
৪) বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে কোনও দলীয় নেতাকে টিকিট দিলে তেমন সুবিধা হবে না। গতবার দোলা সেনকে প্রার্থী করে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে তৃণমূল। দরকার একজন তারকা ইমেজের প্রার্থী। যিনি অন্তত ক্যারিশ্মায় পাল্লা দিতে পারবেন।
৫) বিভিন্ন কেন্দ্রেই তাঁকে দিয়ে প্রচার করানো যাবে।

