দুই ম–‌এর রোগ ধরেছে সৌরভকেও

নন্দ ঘোষের কড়চা

গেছেন লন্ডনে ধারাভাষ্য দিতে। ডাক পেয়েছেন এমসিসি–‌র মিটিয়ে। সেই মিটিং থেকে সেলফি তুলে খাঁচিয়ে দিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তাঁকেও কিনা সেলফি তুলে নিজের ঢাক পেটাতে হচ্ছে!‌ বাংলার মহারাজের জন্য এবার কলম ধরলেন স্বনামধন্য নন্দ ঘোষ।।

nanda ghosh logo

রাস্তায় বেরোনোর জো নেই মশাই। সবাই শুধু সেলফি তুলে যাচ্ছে। বাসে উঠলেও সেলফি, পার্কে বসেও সেলফি। রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েও সেলফি। কিছু একটা সুযোগ পেলেই হল। অমনি মোবাইল বাগিয়ে, দাঁত কেলিয়ে নিজের ছবি খাঁচিয়ে দিল।
ওদেক আর দোষ কী!‌ কাছের লোকদের কাছে নিজেকে একটু দেখাতে চায়। যদি দু–‌একটা লাইক জুটে যায়!‌ কাগজে ছবি দেখে অবাক হয়ে গেলাম মশাই। আমাদের বাংলার আইকন সৌরভ গাঙ্গুলি। হ্যাঁ, সে ব্যাটাও সেলফি খাঁচিয়ে দিল!‌ সে যে লন্ডনে গেছে, দেশসুদ্ধু সবাই জানে। জনে জনে ইন্টারভিউ দিয়েছে। একে খেলানো উচিত, ওকে বসানো উচিত, ওকে দিয়ে বোলিং শুরু করা উচিত— এসব জ্ঞান দিয়েই চলেছে। এতেও শান্তি নেই। যেই এমসিসি–‌র একটা মিটিংয়ে ডাক পেল, অমনি সেলফি খাঁচিয়ে দিল। দেখো, আমি মিটিং করছি।

আরে বাবা, তুই সৌরভ গাঙ্গুলি, সিএবি–‌র প্রেসিডেন্ট, বোর্ডেরও এটা–‌সেটা নানা কমিটিতে আছিস। তুই মিটিংয়ে ডাক পাবি, এতে অবাক হওয়ার কী আছে!‌ এত ঢাক পেটানোই বা কী আছে?‌ এমসিসি–‌র বাকি লোকগুলো যদি তোর সঙ্গে ছবি তুলত, তবুও একটা মানে দাঁড়াত। তোকে কিনা দেখাতে হচ্ছে, দেখো, আমি মিটিং করছি।

sourav

আর বাংলা কাগজগুলোকেও বলিহারি। আদেখলাপনার শেষ নেই। যেই না টুইটারে এই ছবি পেল, অমনি সবাই ছাপিয়ে দিল। ভারতের যুব দল আর্জেন্টিনাকে হারাল, আরেক যুব দল ইরানকে হারাল, তা নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। সেইদিন কিনা সৌরভের সেলফি ছাপতে হল! টেস্ট সিরিজ চলছে। প্রায় সব ডেইলি কাগজ থেকেই রিপোর্টার গেছে। মিটিংয়ে কী হল, সবাই জানতে চাইবে। ঢাউস ঢাউস ইন্টারভিউ বেরোবে। তাতেও শান্তি নেই!‌ নিজের ছবি নিজেকেই তুলে বাজারে ছাড়তে হল!‌

দেশের ম, রাজ্যের ম— দুজনেই নিজের ছবিকে খুব ভালবাসেন। নিজেরাই ঢাউস ঢাউস বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজেদের ছবি ছাপান। আরেক ম, আমাদের মহারাজ–‌এরও সেই রোগ এসে যাচ্ছে। সেও নিজেই ছবি তুলে বাজারে ছাড়ছে। কার কাছে কী প্রমাণ করতে চাইছে, কে জানে!‌

কী জানি, হয়ত ডোনা বৌদিকে দেখাতে চাইছে, দেখো আমি মিটিংয়ে আছি। তুমি যা ভাবছ, তা নয়।

(‌নন্দ ঘোষের কড়চা। বেঙ্গল টাইমসের জনপ্রিয় একটি ফিচার। নন্দ ঘোষ আসলে বিশ্বনিন্দুক। সবকিছুর মধ্যেই তিনি খুঁত খুঁজে বেড়ান। তাঁর হাত থেকে কারও নিস্তার নেই। এবার তিনি বাগে পেয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলিকে। লেখাটিকে নিছক মজা হিসেবেই দেখুন। )‌

Previous post ধৈর্য কেড়ে নিচ্ছে ফেসবুক
Next post ধন্যবাদ শমীক, এটাই আসল অনাস্থা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *