সংহিতা বারুই
একসময় ছবির জগৎ থেকে সরেই দাঁড়িয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। ঠিক করেই ফেলেছিলেন, আর ছবি করবেন না। সেখান থেকে টেনে শ্যুটিং ফ্লোরে এনেছিলেন একটি মানুষ— স্বপন সাহা। নয়ের দশকে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি যখন ধুঁকছে, তখন ঘুরে দাঁড়িয়েছিল যাঁদের চওড়া কাঁধে ভর দিয়ে, তাঁদের সামনের সারিতেই থাকবে এই নামটি।
ছবিগুলোর নাম শুনলে এই প্রজন্ম নাক সিঁটকোতেই পারে। কিন্তু একসময় এই সুজন সখী, ভাই আমার ভাই বা শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ–এই সব ছবিগুলোই অক্সিজেন দিয়েছিল বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে। তিনিও মাঝে কিছুদিন কার্যত ছুটিতেই ছিলেন। ফিরে এসেছিলেন গতবছর পুজোর ঠিক আগে। ছবির নাম ছিল শ্রেষ্ঠ বাঙালি। ছবির নায়ক ছিলেন রাজপাল যাদব।

পুজোয় অনেক ছবির ভিড়ে হয়ত সেভাবে দাগ কাটেনি। তবে একটা বড় চমক দেখিয়েছিলেন। এখনও পর্যন্ত একটি বাংলা ছবিতেই দেখা গেছে সানি লিওনকে। সেই ছবি স্বপন সাহার শ্রেষ্ঠ বাঙালি। এবার নতুন চমক নিয়ে হাজির। ছবির নাম জীবন থেকে নেওয়া। মুখ্য ভূমিকায় কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কাহিনী কমল সরকারের। পারিবারিক বৃত্ত নিয়েই ছবি। নির্যাস কিছুটা এরকম: সমস্ত উপার্যন ব্যয় করে ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এক বৃদ্ধ (সৌমিত্র)। তারপর যা হয়! স্ত্রীর প্ররোচনায় বাবার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। বাবার ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম।
পেরিয়ে যায় অনেক বছর। নাতনি বড় হতে থাকে। দাদুর সঙ্গে পরিচয়ও হয়। কিন্তু ওই বৃদ্ধ যে তার নিজের দাদু, নাতনি জানে না। জানল অনেক পরে। সে চাইল দাদুকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে। এই নিয়ে বাবা–মার সঙ্গে নানা দ্বন্দ্ব। এমনই পটভূমিতে এই ছবি। অভিনয়ে সৌমিত্র ছাড়াও রয়েছেন দেবদূত ঘোষ, সোমাইন্দু দে, অনুরাধা রায়, অনামিকা সাহা, রোহন, জিনিয়া। সঙ্গীতে অশোক ভদ্র। প্রচার ও জনসংযোগ: নিগমানন্দ ঠাকুর। প্রযোজক পার্থ ববি। পরিচালক স্বপন সাহা। বাংলার বেশ কয়েকটি হলে ছবিটি মুক্ত পাচ্ছে শুক্রবার। ছবিটি কতটা বাণিজ্যিক সাফল্য পায়, তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে।
