বাসবী ভট্টাচার্য
২৫ বছর আগে, ১৯৯৩ সালে বামপন্থী সরকার জয়ী হওয়ার সময় যে শিশুটির বয়স ছিল ৫ বা ৬, সে কিন্তু তখন থেকেই এই সরকার দেখে এসেছে। এই সরকারের কাছে বর্তমানে ৩০/৩১ বছরের সেই যুবার দাবি সরকার তার মৌলিক সমস্যার (চাকুরি,ভবিষ্যত নিরাপত্তা, ইত্যাদি) নিশ্চিত করুক — অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে কোনও রাজ্য সরকারের পক্ষে তা অসম্ভব বলেই এই রাজ্যের সরকার তা করতে পারেনি, সেই যুবার মনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে ।
২৫ বছর আগে ২৫/২৬ বছরের যে যুবা মনে মনে সেই সময়ের রাজ্য সরকারের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে বামেদের ভোট দিয়ে জয়ী করেছিল আজ তিনি ৫০/৫১ বছরের প্রৌঢ়, ঘরে বেকার ছেলে, অবিবাহিত মেয়ে, কারও আবার অসুস্থ বাবা/মা-কে নিয়ে ভরা সংসার, অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী। সরকারের কাছে প্রত্যাশার পারদ সব সময় ঊর্ধ্বমুখী বলেই তা পূরণ না হলে ক্ষোভ জমা খুব অস্বাভাবিক নয়।
দিল্লি অনেক দূরে, সামনে রাজ্য সরকারকেই আমরা মনে করি যাবতীয় সমস্যার কল্পতরুর ভাণ্ডার। ফলে মনের মধ্যে যখন ক্ষোভের আঁচ একটু আধটু ফুটে বেরোতে থাকে তখন বিরোধী দল তার সুবিধা নেবেই। প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়ে স্বভাবসিদ্ধ মোহময়ী ছলনা দিয়ে এই সমস্ত মানুষজনকে ভুল বোঝানোর প্রেক্ষিত তাই অত্যন্ত সহজলভ্য হয়েই ধরা দিয়েছে।
তবু মাননীয় ত্রিপুরাবাসী, আপনারা একবার একটু পশ্চিমবঙ্গবাসীর কথাটা মাথায় রাখলে মনে হয় ভালো করতেন। যাই হোক একটা কথা আমি অন্ততঃ আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই —-বামপন্থীরা নির্বাচনে হেরে গেলেও রাগ করে আপনাদের থেকে দূরে থাকবেন না। আপদে বিপদে সব সময়ই তাদের পাশে পাবেন। ভোটে জিতে ক্ষমতা দখল বামপন্থীদের একমাত্র লক্ষ্য নয় —- সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনের পথে ভোটে লড়াই একটা পদক্ষেপ মাত্র। তাই কোনও রাগ দুঃখ মান অভিমান না রেখে এতদিন যেমন বামপন্থীদের সঙ্গে মিলেমিশে ছিলেন, তেমনই থাকবেন। আমার বিশ্বাস অচিরেই আপনাদের মনে অনুশোচনা জন্মাবে। তখন অন্ততঃ এই শপথ নেবেন, “এই ভুল দ্বিতীয়বার আর করব না”।
(এটি ওপেন ফোরামের লেখা। মতামত লেখকের নিজস্ব। ত্রিপুরা নির্বাচনের বিষয়ে আপনিও নিজের মতামত ও গঠনমূলক সমালোচনা তুলে ধরতে পারেন। পাঠিয়ে দিন বেঙ্গল টাইমসের ঠিকানায়। ঠিকানা: bengaltimes.in@gmail.com)

