কোনটা দেখাতে নেই, মিডিয়া জানে

সাগর সেনগুপ্ত

যখনই কোনও উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়, যখনই দাঙ্গার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, একটা অভিযোগ হামেশাই শোনা যায়। মিডিয়া তো এসব দেখাবে না। ধূলাগড়ে এতকিছু হল, কিছুই লিখল না। চ্যানেলগুলোও দেখাল না।

bengali-newspapers-onlineযে বলছে, আরও কিছুক্ষণ মন দিয়ে তার কথাগুলো শুনুন। মোটামুটি চেনা স্রোতে প্রবাহিত হয়ে চলবে। একটু পরেই আসল কথাগুলো ঠিক বেরিয়ে আসবে। তিনি নন মেট্রিক হতে পারেন, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হতে পারেন, শিক্ষক হতে পারেন, অবসর নেওয়া বয়স্ক মানুষও হতে পারেন।
মিডিয়ার কী দেখানো উচিত, কী দেখানো উচিত নয়, সব এঁরাই ঠিক করে দেবেন। প্রেস কাউন্সিল কী জিনিস, জার্নালিস্টিক এথিক্স কী জিনিস, এসব এঁদের বোঝার দায় নেই। এঁরা সবজান্তা। কেন দেখানো হল না দাঙ্গার দৃশ্য?‌

petrol pump
মস্ত আক্ষেপ, কেন বসিরহাটের উত্তপ্ত ছবি পৌঁছে গেল না পুরুলিয়ার সেই প্রত্যন্ত গ্রামে। তাহলে উস্কানি দেওয়াটা অনেক সহজ হত। সোশাল সাইটে যেসব বিকৃত ছবি আর তথ্যের ফোয়ারা চলছে, কেন চ্যানেল বা কাগজ সেই স্রোতে গা ভাসাচ্ছে না। আগে এইসব কণ্ঠস্বর কম শোনা যেত। তাঁদের আলাদা করে চিহ্নিত করা যেত। এখন এটাই যেন মূল সুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকৃত স্বরগুলোই এখন জনমতের মূলস্রোত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারাই ঠিক করে দিচ্ছে, কে কী দেখাবে, কে কী দেখাবে না।
এঁদের কথা শুনে বুঝতে পারি, আগুন লাগলে আর দমকল দরকার নেই। সেই আগুন যেন আরও দাউ দাউ করে জ্বলে। তাই এঁরা আগুন লাগলে দমকলে ফোন করা পছন্দ করেন না। এঁরা হয়ত পেট্রোল পাম্পেই ফোন করতে চাইবেন। সেই সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে।

Previous post সেদিন বুদ্ধবাবু কিন্তু তেড়ে আসেননি
Next post ভরসা থাকুক বেলাশেষের আজানে আর শাঁখের সুরে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *