সরল বিশ্বাস
যে ভুলটা করেছিলেন রাহুল গান্ধী, ঠিক সেই ভুলটাই করলেন নরেন্দ্র মোদি। তারই মাশুল দিতে হল বিহারে।
অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন নীতীশ কুমার। অভিনন্দন আসছে লালুপ্রসাদের কাছেও। কিন্তু আড়ালেই থেকে গেলেন আরও এক কারিগর। তিনি প্রশান্ত কিশোর।
না, তিনি জেডিইউ বা আরজেডি নেতা নন। কিন্তু আড়াল থেকে অনেককিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন এই মানুষটি।
চাকরি করতেন আফ্রিকায়। সেখান থেকে তাঁকে আনেন নরেন্দ্র মোদি। গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের রণকৌশল ঠিক করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রশান্তের হাতেই। বিরাট জয় পেয়েছিলেন মোদি।

তারপর রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ হয় প্রশান্তর। কংগ্রেসের কী স্ট্র্যাটেজি হওয়া উচিত, তা নিয়ে অনেক পরামর্শ দেন প্রশান্ত। কিন্তু তাঁর পরামর্শকে বিশেষ আমল দেননি রাহুল। তখন আবার মোদির কাছেই ফিরে যান প্রশান্ত। ২০১৪ নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই ঠিক করে ফেলেন প্রচারে কোন কোন বিষয়কে সামনে আনতে হবে।
‘চায়ে পে চর্চা’ তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। ঘর ঘর মোদি বা আচ্ছে দিন-এর স্লোগানে বাজিমাত করেছিল বিজেপি। মোদির পোশাক থেকে রিসার্চ ওয়ার্ক, অনেকটাই সামলে ছিলেন এই প্রশান্ত ।
কিন্তু লোকসভা ভোটের পরেই মোদির সঙ্গ ত্যাগ করেন প্রশান্ত। মোদিই তাঁকে আর রাখেননি নাকি তিনি নিজেই সরে গেছেন, সেই উত্তর অজানা। এক বছর ছুটিতে চলে গিয়েছিলেন। আবার ফিরে এলেন নীতীশের হাত ধরে। প্রশান্তের জন্ম বিহারের বক্সারে। মে মাস থেকে জড়িয়ে রইলেন নীতীশের সঙ্গে।
তাঁর টিম একটি সমীক্ষা চালালো। দেখা গেল, উন্নয়নের জন্য বিহারের জনতা নীতীশকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন। নীতীশের সততা ও ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন নেই। কিন্তু নীতীশকেই আবার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে দেখতে চাইছিলেন না অধিকাংশ ভোটার। এই সমীক্ষা রিপোর্ট ফাঁস হয়ে যায়। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়েও নানা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করলেন। জানালেন, লালুর সঙ্গে জোট কোনওভাবেই ভাঙা যাবে না। আসন সমঝোতা নিয়ে যেন তাড়াহুড়ো না করা হয়। দফায় দফায় আলোচনা চালাতে হবে। সবমিলিয়ে আসন বন্টনের প্রক্রিয়া প্রায় এক মাস ধরে চলেছিল।
প্রশান্তের টিমের এক কর্মীর দাবি, ‘নীতীশজি যাই বলছিলেন, বিতর্ক তৈরি হচ্ছিল। তাই আমাদের মনে হল, তাঁর ভাষণে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। সেই ভাষণের অভিমুখ বদল করতে হবে।’

নামানো হল সাড়ে সাত হাজার সাইকেল। একেকজন রোজ পঞ্চাশটি করে বাড়িতে যাবেন। পৌঁছে দেবেন নীতীশের বার্তা। হোয়াটস আপ থেকে মিসড কল, নানা ব্যবস্থা চালু হল। গান বাঁধা হল নীতীশকে নিয়ে- ‘ফিরসে এক বাহার হো/ বিহার মে বাহার হো/ ফির সে এক বাহার হো/ নীতীশ কুমার হো।’ গানটা ছড়িয়ে পড়ল মুখে মুখে। ছড়িয়ে পড়ল প্রত্যন্ত এলাকায়।
সাফল্যের অনেক কাহিনী আড়ালেই আছে। আড়ালেই থাকবে। নীতীশ কুমারও বড়সড় কৃতিত্ব দিচ্ছেন এই প্রশান্তকেই। নীতীশ বা লালুর যেমন জবাব দেওয়ার ছিল, তেমনই জবাব দেওয়ার তাগিদ ছিল প্রশান্ত কিশোরেরও।
হাসছেন লালু, হাসছেন নীতীশ। আড়াল থেকে হাসছেন প্রশান্তও।
সামনের বছর বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। কোথায় ডাক পড়বে এই নেপথ্য নায়কের?
