সুপ্রকাশ রাউত
বিহারে পালাবদল। হ্যাঁ, সে অর্থে পালাবদলই বলা যায়। কারণ, প্রায় দুই দশক ধরে মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর এবার দায়িত্ব ছাড়লেন নীতীশ কুমার।
কখনও থেকেছেন বিজেপির সঙ্গে। কখনও লালুপ্রসাদ–কংগ্রেসের সঙ্গে। মাঝে ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ফল খারাপ হওয়ায় নৈতিক দায় নিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। কয়েকমাস পরেই আবার স্বমহিমায় ফিরে এসেছিলেন।
বারবার শিবির বদল কখনই কাম্য নয়। বিশেষ করে এক দলের সমর্থন নিয়ে জেতার পর মাঝপথে সেই শিবির ছেড়ে অন্য দলের সমর্থনে ফের মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা মোটেই গৌরবের নয়। কিন্তু তারপরও বলতে হবে, বিহারে সুশাসন আনার ক্ষেত্রে নীতীশ কুমারের বড় একটা ভূমিকা আছে। লালুপ্রসাদ যাদবের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হয়েছিল, এটা ঘটনা। নীতীশ কুমারের আমলে পরিস্থিতি বদলেছিল, এটাও ঘটনা। যে জঙ্গলরাজের জন্য বিহারের পরিচিতি, সেই জঙ্গলরাজ এখন অনেকটাই অতীত। প্রশাসনে অনেকটাই স্বচ্ছ্বতা এসেছিল। চোখে পড়ার মতো কিছু উন্নয়নও হয়েছে। অন্তত তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নেই। ‘সুশাসনবাবু’ স্বীকৃতিটাও অর্জন করেছিলেন। মদ নিষিদ্ধ করার মতো সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনেকটাই সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে গার্হস্থ অশান্তি অনেকটাই কমেছে।
যেভাবেই হোক, বিজেপি চাইছিল বিহার দখল করতে। কিন্তু নিজেদের কৃতিত্বে তা সম্ভব ছিল না। তাই নীতীশ কুমারকে সামনে রাখা দরকার ছিল। এটা মোটেই বিজেপির উদারতা ছিল না। বরং কৌশলই ছিল। ছয় মাস যেতে না যেতেই তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে বিহার দখল হল। কয়েক বছর পর নীতীশ কুমারের দলটা আদৌ থাকবে কিনা, তা নিয়েই সংশয়। আস্তে আস্তে জেডিইউ–কে কার্যত গিলে ফেলবে বিজেপি। এটাই তাঁদের রাজনৈতিক কৌশল।
গত কয়েক মাস ধরেই নীতীশ কুমার অসুস্থ ছিলেন। অসংলগ্ন কথা বলছিলেন। আচরণও স্বাভাবিক ছিল না। বলা যায়, মাথা উঁচু রেখেই সরে গেলেন। এছাড়া তাঁর সামনে আর কোনও উপায়ও ছিল না। সবাইকেই একটা সময় নেতৃত্বের রাশ তুলে দিতে হয়। নীতীশবাবুকেও সরে দাঁড়াতে হল। তবে জঙ্গলরাজের বিহারকে সুশাসনের রাস্তায় আনার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাতেই হবে।
