সরল বিশ্বাস
কে হবেন বোর্ডের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ? সারা দেশে জোর চর্চা। কিন্তু আরও একটা মোক্ষম প্রশ্ন। কে হবেন সি এ বি প্রেসিডেন্টি ? কার কথায় চলবে ইডেন গার্ডেন্স ?
ডালমিয়ার অন্ত্যেষ্টির ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই এই নিয়ে নানা মত উঠে আসতে ময়দানে। ভেসে উঠছে অনেক নাম। সহজ কথা, যে কারণে তাঁকে সচিব করা হয়েছিল, ঠিক সেই কারণেই হয়ত তাঁকে সভাপতি করা হতে পারে। অনেকের আপত্তি থাকলেও বাধ্য হয়েই তা মেনে নিতে হবে।
সিএবি সচিব হওয়ার ব্যাপারে সৌরভ গাঙ্গুলি খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। এমনকি সৌরভকে সচিব করার ব্যাপারে ডালমিয়াও যে খুব উৎসাহী ছিলেন, এমন নয়। অন্তত সিএবি-র খোঁজখবর যাঁরা রাখেন, তাঁদের কাছে এটা ওপেন সিক্রেট।
তাহলে সৌরভ সেক্রেটারি হলেন কেন ? সহজ কথা, তৃণমূলের আগ্রাসন ঠেকাতে। সিএবি-র চেয়ারের দিকে অনেকেরই চোখ ছিল। আস্তে আস্তে গোটা সিএবি-টাই কার্যত তৃণমূল ভবন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তা ঠেকাতেই সৌরভের নাম সামনে আনেন ডালমিয়া। বিচক্ষণ ডালমিয়া জানতেন, একমাত্র সৌরভের নাম সামনে আনা হলে শাসক দল সরাসরি সংঘাতে যাবে না।

যা ভেবেছিলেন, ঠিক তাই হল। সৌরভকে সচিব পদে প্রার্থী করায় একেবারে বিনা লড়াইয়েই ড্যাং ড্যাং করে জিতে গেলেন ডালমিয়া এবং বাকিরা। অনেক গুঞ্জন, অনেক সমীকরণ বাতাসে ভেসে বেড়ালেও এক নিমেশে তা থেমে গেল।
এবারও সেই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি নাকি সি এ বি সভাপতি হওয়ার ব্যাপারে খুব আগ্রহী। আরও কয়েকজন আগ্রহী নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। শেষপর্যন্ত মমতা ব্যানার্জি যাঁর নামে সিলমোহর দেবেন, হয়ত তিনিই বসবেন সিএবি-র রাজ্যপাটে। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের যে কমিটি তৈরি হয়েছে, সেখানে ১৫ জন সদস্যের ১১ জনই তৃণমূলের সামনের সারির নেতা। আগামীদিনে গোটা সিএবি জুড়ে তৃণমূলি দাপট তৈরি হবে। শৃঙ্খলায় মোড়কে থাকা সিএবি-র চেহারা কী হতে পারে, তা ভেবে অনেকেই আঁতকে উঠছেন।
যাঁরা সিএবি-র দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের মধ্যে যোগ্যতম হতে পারেন বিশ্বরূপ দে। বোর্ডের বিভিন্ন কর্তার সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ডালমিয়ার ছায়ায় থেকে ক্রিকেট প্রশাসনের কাজটা দারুণ শিখেও নিয়েছেন। কিন্তু তিনি সভাপতি, আর সচিব সৌরভ- এটাও বেশ দৃষ্টিকটূ মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে সৌরভ আদৌ সিএবি-তে থাকবেন কিনা, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

তাই সিএবি-র একটা বড় অংশই চাইছে, সৌরভ গাঙ্গুলিকেই সিএবি সভাপতি হিসেবে সামনে আনা হোক। তাঁর নাম সামনে থাকলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবেন না। অন্য কোনও মন্ত্রী বা সাংসদ সৌরভের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ঝুঁকি নেবেন না। আর সেক্ষেত্রে সি এ বি তৃণমূলের আগ্রাসনের হাত থেকে আপাতত রক্ষা পাবে।
তাহলে, মোদ্দা কথাটা কী দাঁড়াল ? সৌরভের নামে সিএবি-র অন্দরে মৃদু ফিসফিস থাকতেই পারে। কিন্তু সিএবি-তে তৃণমূল আগ্রাসন ঠেকাতে সৌরভকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায়ও নেই।
