পথের বাঁক বদলে দিতে পারে বাঁকিপুর

বাঁকিপুর বিধানসভা পাটনা সাহিব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর মূলত তৎকালীন পাটনা পশ্চিম ও পাটনা মধ্য বিধানসভার অংশ নিয়ে এই কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। সামাজিক বিন্যাসের দিক থেকে এখানে উচ্চবর্ণের ভোটারের সংখ্যাধিক্য উল্লেখযোগ্য। বাঁকিপুর কিংবা তার পূর্বসূরি পাটনা পশ্চিম—উভয়ই গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

গত প্রায় ২০ বছর ধরে এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তার আগে পাটনা পশ্চিমের বিধায়ক ছিলেন তাঁর বাবা নবীন কিশোর। ফলে এই কেন্দ্র শুধু বিজেপির রাজনৈতিক দুর্গই ছিল না, দীর্ঘদিন ধরে নিতিন নবীনের পরিবারেরও প্রভাববলয়ের মধ্যে ছিল।

এই দীর্ঘ সময়ে গঙ্গাতীরের পাটালিপুত্র বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাঁকিপুর যেন সেই পরিবর্তনের ঢেউ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। নানা রাজনৈতিক উত্তাপ ও পরিবর্তনের মধ্যেও এই কেন্দ্র তার পুরোনো অবস্থানই ধরে রেখেছিল।

আজ বাঁকিপুর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হচ্ছে। বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নিতিন নবীন রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হওয়ায় এই উপনির্বাচন বিজেপির কাছে ছিল মর্যাদার লড়াই। দল তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেই নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিল। কিন্তু বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপিকে পিছনে ফেলে জনসুরাজ পার্টির প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছেন।

পাটালিপুত্র জরাসন্ধের পতন দেখেছে, ইতিহাস সাক্ষী, পাটালিপুত্র ধননন্দের পতনও দেখেছে। সেই মাটিতেই বারবার জন্ম নিয়েছে নতুন রাজনৈতিক ধারা। আজকের ফলাফলও তেমনই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এটি কেবল একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ফল নয়; বরং ঘৃণা, বিভাজন এবং লুটখাওয়ার রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদের প্রতিফলন।

Previous post অশ্রুতে মিশে ছিল পাহাড়ের হাসি
Next post ‌নাইবা এল ট্রফি, তবু মহাকালের আঙিনায় নেইমার নামটা থেকে যাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *