রাগ নাকি ভরসা!‌ চাল আর কাঁকর সেই মিশেই গেল

স্বরূপ গোস্বামী

বছর পাঁচেক আগে বেশ হুঙ্কার দিয়েই বলেছিলেন অমিত শাহ, ‘‌ইসবার দোশো পার।’ দুশো তো অনেক দূরের কথা,‌ দৌড় থেমে গিয়েছিল একশোর অনেক আগেই।

এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এতদিন রইলেন, এত সভা করলেন, কিন্তু ওই ‘‌দোশো ‌পার’‌ এর রাস্তায় আর হাঁটেননি। রাজ্য নেতারাও বেশ সংযতই ছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাব, সরকার হবে, এই জাতীয় কথা বললেও দুশোর হুঙ্কার সেভাবে কাউকেই ছাড়তে দেখা যায়নি। কিন্তু তারপরও দুশো আসন পেরিয়েই গেল।

জনতা তাহলে কী বোঝাতে চাইল?‌ তৃণমূলকে বর্জন করল নাকি বিজেপিকে গ্রহণ করল?‌ কোনটার পাল্লা ভারী?‌ কেউ কেউ পাল্টা যুক্তি দিতেই পারেন, বিজেপিকে গ্রহণ করল বলেই তো দুশো পেরিয়ে গেল। শুধু যদি তৃণমূলকে বর্জন করত, তাহলে বাম, কংগ্রেস তো ক্ষমতায় আসতে পারত।

আসলে, দেওয়াল লিখনটা জনতা ঠিকই পড়তে পারে। সে তার মতো করে বিকল্প ঠিক খুঁজে নেয়। তৃণমূলের প্রতি তীব্র রাগ ও ঘৃণা তৈরি হয়েছিল, এটা ঘটনা। মানুষ তৃণমূলকে উচিত শিক্ষা দিতে চাইছিল, এটাও ঘটনা। কিন্তু পাশাপাশি মানুষ বিরোধী ভোট ভাগ করতে চায়নি। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, আমজনতা বুঝেছে, তৃণমূলকে যদি হারাতে হয়, এই মুহূর্তে বিজেপি–‌কে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। বাম–‌কংগ্রেস বড়জোর একটা–‌দুটো আসন পাবে। কোথাও কোথাও বিরোধী ভোটে ভাগ বসিয়ে তৃণমূলকেই জিতিয়ে দেবে। এর বেশি কিছু হওয়ার নয়। তার থেকে তৃণমূলকে যদি হারাতে হয়, বিজেপিকে ঝেঁপে ভোট দাও।

তাই বলে এত ভোট এসে যাবে, এত আসন এসে যাবে, বিজেপি নেতৃত্বও ভাবতে পারেননি। দুশো তো দূরের কথা, আদৌ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসবে কিনা, তা নিয়েও অনেকের মধ্যে তীব্র সংশয় ছিল। ক্যামেরার সামনে সেই সংশয় হয়তো প্রকাশ পায়নি। কিন্তু একান্ত আলোচনায় অনেকেই জানিয়েছিলেন, এবার গতবারের থেকেও খারাপ ফল হবে। কেন খারাপ ফল হবে, তার সপক্ষে নানা যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন। সেই অঙ্ক বা সেই ব্যাখ্যা মোটেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো ছিল না।

কিন্তু জনস্রোতের এমনই মহিমা, সেইসব অঙ্ক, যুক্তি, ব্যাখ্যা কোথায় ভাসিয়ে দিল!‌ তাহলে কার পাল্লা ভারী?‌ তৃণমূলের প্রতি ঘৃণার নাকি বিজেপির প্রতি ভরসার?‌ এখানেও সেই চাল আর কাঁকর মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আলাদা করা কঠিন। তবু যদি আলাদা করা যেত, হয়তো বোঝা যেত, ভরসার থেকে ঘৃণার পাল্লাটাই ভারী। বিজেপি যত না গ্রহণযোগ্য, তৃণমূল ঢের বেশি বর্জনযোগ্য।

Previous post বেঙ্গল টাইমস।। ই ম্যাগাজিন।। ১ মে সংখ্যা।।
Next post সেদিনও বলেছিলেন, গিল পারচেজড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *