সুরঞ্জন সরকার
শিক্ষার সঙ্গে বিজেপির যেন কোনও সম্পর্কই নেই। এমন এমন লোকেদের এমন এমন পদে বসানো হচ্ছে, যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে রয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। এই তালিকায় সাম্প্রতিকতম সংযোজন সম্রাট চৌধুরি। বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
এই নতুন মুখ্যমন্ত্রী নানা ব্যাপারেই বেস ‘করিতকর্মা’। নানা ঘাটের জল খেয়ে ভাজপা শিবিরে ভিড়েছেন। কখনও ছিলেন লালুপ্রসাদের দলে, কখনও নীতীশ কুমারের দলে। এর আগে তিনি ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী। এখন একেবারে মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষাগত যোগ্যতা কী? কাগজে কলমে পিএইচডি। যেমন–তেমন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয়, একেবারে কলম্বিয়া থেকে। অথচ, কোথায় তিনি মাধ্যমিক পাস করেছেন, কোথায় গ্র্যাজুয়েশন করেছেন, কেউ জানেন না। উনি নিজেও জানেন না। জিজ্ঞেস করলেই বলেন, সব ‘হাপিডিবিটে’ লেখা আছে। একটু কষ্ট করে ইউটিউবে তাঁর যে কোনও একটা ইন্টারভিউ শুনুন। নিজেই বুঝতে পারবেন তাঁর বিদ্যের দৌড় কতদূর। নির্বাচনের আগে প্রশান্ত কিশোর নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, এই ডিগ্রি যে ভুয়ো, তার সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণও দিয়েছিলেন। তারপরও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি।
বিজেপিকেও বলিহারি! মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য নিদেনপক্ষে ম্যাট্রিক পাস কাউকে পাওয়া গেল না! যাঁর লেখাপড়ার দৌড় ক্লাস সেভেন, যিনি দু–লাইন ইংরাজি পড়তে পর্যন্ত পারেন না, তিনি কোত্থেকে একটা ভুয়ো সার্টিফিকেট নিয়ে পিএইডি বলে দাবি করলেন, সেটাই মেনে নিতে হবে! ওই সার্টিফিকেট যে জাল, এটা নিয়ে কোনও সুস্থা মানুষের কোনও সংশয় থাকার কথা নয়। নির্বাচন কমিশন সবার এত এত কাগজ চাইছে, অথচ, একজন নন ম্যাট্রিক লোক সদর্পে পিএইচডি–র সার্টিফিকেট জমা দিয়ে দিচ্ছেন, তার কোনও তদন্ত হবে না!
মূর্খ লোক মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না, এমনটা সংবিধানে কোথাও বলা নেই। কিন্তু যিনি নন ম্যাট্রিক, তিনি যদি পিএইচডি–র ভুয়ো সার্টিফিকেট দাখিল করেন, তখন সেটা জালিয়াতি। এই জালিয়াতির কথা জানার পরেও যাঁরা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করেন, সত্যিই তাঁদের জন্য করুণা হয়। এরকম একজন কীর্তিমান যে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শপথ নিলেন, এটা নির্বাচন কমিশন ও দেশের বিচার ব্যবস্থাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
